লালকেল্লার অনুষ্ঠান বয়কট! স্বাধীনতা দিবসেও কেন দেখা গেল না রাহুল-খাড়গেকে?

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক উদযাপনে লালকেল্লার প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রইলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতার জাতীয় অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদাসম্পন্ন নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের জন্য রেড রোডের অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে আসন বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে বয়সজনিত কারণে ও হেঁটে যাতায়াতের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে তিনি লালকেল্লার অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে দিল্লিস্ত কংগ্রেস সদর দফতরেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে, বিগত বছরগুলিতেও আসন বিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক ও মতপার্থক্যের জেরে কংগ্রেস হাইকমান্ডের এই প্রধান মুখগুলি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। কংগ্রেসের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা আসরে নেমে করেছে শাসকদল বিজেপি। বিজেপি নেতা আরপি সিং প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, খাড়গে মহাশয় নিয়মিত সংসদের অন্দরে সচল থাকলেও কেন এ ধরনের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো থেকে সুকৌশলে দূরে সরে থাকেন? উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসেও রাহুল গান্ধীর আসন বিন্যাস নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাত শিবির। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অপেক্ষাকৃত পেছনের সারিতে আসন দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। যদিও সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, অলিম্পিক পদকজয়ী ও ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা জানানোর জন্যই সামনের সারিগুলির আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আয়োজিত প্রধান সরকারি অনুষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় উৎসবে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা কংগ্রেসের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন, ভূমি পুজো কিংবা অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা— প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও দূরত্ব বজায় রেখেছিল প্রধান বিরোধী দল। বর্তমান রাজনৈতিক আবহে স্বাধীনতা দিবসের মতো পবিত্র দিনেও দুই শীর্ষ নেতার এই অনুপস্থিতি রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।