ঝকঝকে সুন্দর গুড়েই লুকিয়ে মারাত্মক বিপদ! FSSAI-এর এই ছোট্ট ফর্মুলা জানলে এক সেকেন্ডে ধরবেন আসল-নকল

চিনির অস্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বর্তমানে ভারতের রান্নাঘরে আখের গুড়ের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে। পায়েস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা খাবারে মিষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রাকৃতিক গুণে ভরপুর গুড়ের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের লোভে গুড়ে দেদার ভেজাল মেশাতে শুরু করেছে। গুড়ের চকচকে রং সুন্দর রাখা থেকে শুরু করে ওজন বাড়ানোর জন্য তাতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও বেকিং সোডা। আপনার হাতের কাছে থাকা সাধারণ কিছু উপাদান দিয়ে ঘরে বসেই কীভাবে এই ভেজাল হাতেনাতে ধরবেন, সেই বিষয়ে সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা FSSAI।

কীভাবে বাড়িতে করবেন ভেজাল গুড়ের পরীক্ষা? খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে FSSAI একটি খুব সহজ ঘরোয়া পরীক্ষার পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে। এই টেস্ট করার জন্য প্রথমে কিছুটা গুড় ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর একটি গ্লাস বা টেস্ট টিউবের এক চতুর্থাংশ অংশে ওই গুঁড়ো গুড় নেওয়া হয়। FSSAI-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩ মিলি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বা HCL ঢাললেই আসল ও নকলের তফাত পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যদি দ্রবণ থেকে বুদ্বুদ বা ফেনা উঠতে শুরু করে, তবে নিশ্চিত হবেন যে সেই গুড়ে ক্ষতিকারক বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট মেশানো হয়েছে। রাসায়নিকের ভাষায়, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট অ্যাসিডের সংস্পর্শে এসে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে, যার ফলেই এই ফেনা তৈরি হয়। আর যদি কোনো ফেনা বা বাবল না ওঠে, তবে বুঝবেন গুড়টি ভেজালমুক্ত।

কেন মেশানো হয় বেকিং সোডা? মূলত গুড়ের ওজন বেশি দেখানোর জন্যই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সস্তা ও ক্ষতিকারক উপাদানগুলি ব্যবহার করে থাকে। তাই বাজার থেকে কোনো চকচকে বা আকর্ষণীয় রঙের কিউব আকারের গুড় দেখলেই না বুঝে কিনে ফেলা উচিত নয়। কারণ সব চকচকে জিনিস আসল হয় না।

FSSAI-এর পরামর্শ অনুযায়ী, সমস্ত ভেজাল বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক সবসময় ঘরে বসে পরীক্ষা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই গুড়ের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে তা পরীক্ষার জন্য সরকারি ল্যাবে পাঠানোই সবচেয়ে নিরাপদ। তাছাড়া বাজার থেকে প্যাকেটবন্দী গুড় কেনার সময় সবসময় FSSAI-এর লোগো বা নির্দিষ্ট মানচিহ্ন খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *