সহস্র কণ্ঠে বন্দে মাতরমের মেগাসুসংবাদ! স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়

বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তি এবং দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পদার্পণের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএসএস (NSS) সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে সহস্র কণ্ঠে গাওয়া হল জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গোটা অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এদিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছিল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও জাতীয় গানের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি নতুন মূর্তির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এরপর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে এক বিশাল মানববন্ধন তৈরি করেন উপস্থিত পড়ুয়ারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ সভাগৃহে আয়োজিত মূল পর্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে একযোগে বেজে ওঠে সহস্র কণ্ঠে বন্দে মাতরমের সুর। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ধরনের অনন্য উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে এক নতুন ও গৌরবোজ্জ্বল পালক যুক্ত করল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর, মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্করকুমার গুছাইত-সহ বিশিষ্ট গুণীজনেরা। এই সফল আয়োজন প্রসঙ্গে উপাচার্য দীপক কর বলেন, “আজ আমরা সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আমাদের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশভাগের জেরে বাংলার মানুষের জীবনে যে সীমাহীন কষ্ট ও যন্ত্রণা নেমে এসেছিল, তাকে স্মরণ করে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অখণ্ড ভারত ও ‘এক ভারত’ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “এটি অত্যন্ত অভিনব ও প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। এই ধরনের দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান দেশের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আগামীকাল ১৫ অগস্ট, তার ঠিক প্রাক্কালে আমরা সেই সমস্ত বীর শহীদ ও বিপ্লবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম, যাঁর রক্তের বিনিময়ে আমরা আজকের এই স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আপ্লুত পড়ুয়ারাও। নন্দিতা জানা ও সীমা দোলুইয়ের মতো ছাত্রীরা জানান, উপাচার্য ও বিধায়কের পাশাপাশি এমন একটি মহৎ অনুষ্ঠানে সহস্র কণ্ঠে একসঙ্গে জাতীয় গান গাইতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এমন একটি সুশৃঙ্খল ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দেশপ্রেমের জোয়ার রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশংস কুড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *