চেইন মার্কেটিংয়ের ফাঁদে ৫০ কোটির জালিয়াতি! মালদার আবগারি কাণ্ডে নাম জড়াল সুপারিনটেন্ডেন্টের, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন আবগারি দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং তাঁর ভাই। শুধু তাই নয়, এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি কাণ্ডে খোদ একজন আবগারি সুপারিনটেন্ডেন্টের নামও জোরালোভাবে জড়িয়েছে। ধৃতদের শুক্রবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ডাইরেক্টরেট অফ ইকোনমিক অফেন্সেস (DEO)-এর এই পদক্ষেপে গোটা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে চলত এই প্রতারণার চক্র? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সাল নাগাদ খোদ আবগারি দফতরের অফিস থেকেই একটি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা চালাতে শুরু করেছিলেন অভিযুক্তরা। চেইন মার্কেটিংয়ে রাতারাতি মোটা টাকার মুনাফার লোভ দেখিয়ে দফতর থেকেই সহকর্মী ও অন্যান্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়। প্রথম দিকে নিয়মিত মুনাফার টাকা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি বিশ্বাস অর্জন করা হয়েছিল।
সেই ফাঁদে পা দিয়ে আবগারি দফতরের প্রায় ৪৭ জন কর্মী ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ এই সংস্থায় বিনিয়োগ করেন। এর ফলে ২০২৫ সালের মধ্যে গোটা বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ৫০ কোটি টাকার বিশাল গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে। কিন্তু ঠিক তার পরেই মুনাফা দেওয়া তো দূরঅস্ত, আসল টাকা ফেরত দেওয়াও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। উল্টে বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাইতে গেলে ওই কর্মীরা চরম হুমকির মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী কর্মীরা পুরো বিষয়টি ডাইরেক্টরেট অফ ইকোনমিক অফেন্সেস-এর নজরে আনেন।
গ্রেফতারি ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ: গত ৭ অগস্ট ডাইরেক্টরেট অফ ইকনোমিক অফেন্সের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইংরেজবাজার থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত চালিয়ে এক সময় মালদায় কর্মরত ডেপুটি এক্সসাইজ কালেক্টর শুভদীপ ঘোষ এবং তাঁর ভাই অগ্নি মৈত্রকে (৩৩) গ্রেফতার করে ডিইও (DEO)।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, এই পুরো চক্রের সঙ্গে এক আবগারি সুপারিনটেন্ডেন্টেরও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। যিনি একসময় মালদা জেলাতেই কর্মরত ছিলেন। খুব শীঘ্রই তাঁকেও গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চালাচ্ছে তদন্তকারী দল। আর্থিক দুর্নীতি ও বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার এই রমরমা কারবারে আর কে কে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।