বই-খাতার বাইরে স্কুল ব্যাগে এই ৬টি জিনিস আছে তো? মায়েরা কোন ভুলগুলো ভুলেও করবেন না জানেন?

স্কুল খুললেই মায়েদের সকাল শুরু হয় একপ্রকার যুদ্ধ দিয়ে। ঘুম থেকে তোলা, টিফিন বানানো থেকে শুরু করে ইউনিফর্ম পরানো—এই সমস্ত ব্যস্ততার মাঝে সন্তানের স্কুল ব্যাগ গোছানোটা অনেক সময়ই তাড়াহুড়োয় করা হয়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই দৈনন্দিন জীবনের নানা ছোটখাটো বিপদ ও ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব। বই-খাতা ছাড়াও সন্তানের ব্যাগে এমন কিছু জরুরি জিনিস রাখা দরকার, যা আপনার সন্তানকে সারাদিন সুরক্ষিত, সুস্থ ও ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করবে।
অভিজ্ঞ সংবাদ মাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তানের স্কুল ব্যাগে বই-খাতার পাশাপাশি যে ৬টি জিনিস রাখা অত্যন্ত জরুরি, তা দেখে নিন একনজরে:
১. বিশুদ্ধ জলের বোতল: বর্তমানের ভ্যাপসা গরমে ডিহাইড্রেশন খুবই কমন সমস্যা। খেলার মাঠ বা ক্লাসের ক্লান্তি শেষে শিশুদের প্রবল তেষ্টা পায়। কিন্তু স্কুলের জল সবসময় সমানভাবে বিশুদ্ধ নাও হতে পারে। তাই বাড়িতে ফিল্টার করা জল ভরা বোতল সঙ্গে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে স্টিল বা কপারের বোতল ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
২. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিস্যু: টিফিন খাওয়ার আগে কিংবা টয়লেট ব্যবহার করার পর হাত জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তাই ব্যাগের সাইড পকেটে সবসময় ৫০ মিলিলিটারের একটি ছোট স্যানিটাইজার ও এক প্যাকেট টিস্যু পেপার অবশ্যই রাখুন।
৩. এক্সট্রা মাস্ক ও পরিষ্কার রুমাল: হঠাৎ ধুলোবালি, বৃষ্টি বা কোনো সহপাঠীর ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা দেখা দিলে এটি দারুণ কাজে দেবে। একটি অতিরিক্ত সার্জিক্যাল মাস্ক এবং পরিষ্কার রুমাল ব্যাগে রাখা থাকলে ঘাম মোছা থেকে শুরু করে যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তা অত্যন্ত উপযোগী প্রমাণিত হয়।
৪. ছোট ফার্স্ট এইড কিট: স্কুল চত্বরে খেলাধুলা করতে গিয়ে ছোটখাটো কেটে ছড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই ব্যাগে একটি ব্যান্ড-এইড, সামান্য তুলো এবং ছোট একটি অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম রাখা দরকার। স্কুলের নার্স বা শিক্ষক মহোদয়দের কাছে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে এটি প্রাথমিক সুরক্ষার কাজ করে।
৫. আইডি কার্ড ও ইমার্জেন্সি কন্ট্যাক্ট: ব্যাগের ভেতরের নিরাপদ কোনো পকেটে বাচ্চার নাম, ক্লাস, অভিভাবকের ফোন নম্বর এবং বাড়ির ঠিকানা লেখা একটি ছোট চিরকুট বা আইডি কার্ড অবশ্যই গুঁজে দিন। অনভিপ্রেত কোনো পরিস্থিতিতে বাচ্চা পথ হারালে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
৬. এক্সট্রা শুকনো খাবার বা ড্রাই ফ্রুটস: স্কুলের নির্ধারিত টিফিনের পরেও অনেক শিশুর খিদে পেয়ে যায়। তাই ব্যাগে ৪-৫টি কিসমিস, দুটি সাধারণ বিস্কুট বা একটি ছোট ফল কেটে দিতে পারেন। এতে সন্তানের এনার্জি লেভেল ঠিক থাকে এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর চিপস বা চকোলেট খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।
যে ২টি ভুল ভুলেও করবেন না:
-
অতিরিক্ত ওজন চাপানো: রুটিন না দেখে সব বই একসঙ্গে ব্যাগে ভরে দেবেন না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের স্কুল ব্যাগ বহন করলে শিশুদের কোমল মেরুদণ্ডে মারাত্মক চাপ পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
-
দামি জিনিসপত্র দেওয়া: সন্তানের ব্যাগে ট্যাব, দামি স্মার্টওয়াচ বা অতিরিক্ত নগদ টাকা দেবেন না। এতে জিনিস হারিয়ে যাওয়ার বা চুরির ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়। সন্তানের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ও জরুরি জিনিসগুলোই ব্যাগে দিন।
একটু সচেতনতা এবং সঠিক উপায়ে ব্যাগ গোছানোই পারে আপনার সন্তানের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশের টেনশন দূর করতে। তাই আগামী দিনে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর আগে এই জরুরি পয়েন্টগুলো মিলিয়ে নিতে ভুলবেন না।