মাসিক ইনকাম ও ঘর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, অন্নপূর্ণার নিয়মে বড় বদল, জানুন বিস্তারিত

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হলো। আগামী ১৭ অগাস্ট থেকেই এই প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের কথা মাথায় রেখে আবেদনের নিয়মে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির ঘরের সংখ্যা এবং পারিবারিক আয়ের শর্ত কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এর ফলে পূর্বে যাঁরা নিয়মের বেড়াজালে পড়ে এই প্রকল্পের বাইরে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরাও এবার বড় স্বস্তি পেতে চলেছেন।

কবে থেকে মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি অগাস্ট মাসের টাকা আগামী ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের দেওয়া শুরু হবে। জুলাই মাস পর্যন্ত জমা পড়া সমস্ত আবেদনের ভেরিফিকেশনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে উপভোক্তাদের দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করতে হবে না। এখন থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে দেওয়ার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জমা পড়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি আবেদন

চলতি বছরের জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য অনলাইনে ও অফলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এরপর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনকারীদের বয়স, আয়, পেশা এবং পারিবারিক পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজ শুরু করে প্রশাসন। সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখার পরেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী এখানেও প্রযোজ্য:

  • আয়করদাতা: যে সমস্ত মহিলা বা তাঁদের পরিবার আয়কর দেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। একই নিয়ম প্রযোজ্য কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী চাকরির ক্ষেত্রেও।

  • আবেদনের আয়ের সীমা: আবেদনকারী মহিলার নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম হতে হবে।

  • পারিবারিক আয়ের নিয়ম: এখানে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো মহিলার নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে হলে, তাঁর পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের আয় এর বেশি হলেও ওই মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে পারবেন। অর্থাৎ, পরিবারের মোট আয়ের চেয়ে আবেদনকারীর নিজস্ব আয়কেই এক্ষেত্রে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখা হবে।

গ্রামীণ মহিলাদের জন্য বিরাট ছাড়: বাড়ি ও ঘরের শর্ত শিথিল

পূর্বে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের ক্ষেত্রে একটি কঠোর নিয়ম ছিল—পরিবারের পাকা বা আধাপাকা বাড়ির ঘরের সংখ্যা তিনটি বা তার বেশি হলে তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রামীণ বাড়ির ঘরের সংখ্যা সংক্রান্ত এই শর্তটি অনেকটাই শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে যে সমস্ত গরিব মহিলারা শুধুমাত্র অতিরিক্ত একটি ঘরের থাকার কারণে এতদিন প্রকল্পের বাইরে ছিলেন, তাঁদের অনেকের আবেদনই এবার নতুন নিয়মে গ্রাহ্য হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপে গ্রামীণ বাংলার লাখ লাখ মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য নিয়ম

২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি কোনো মহিলা যদি রাজ্য সরকারের অন্য কোনো আর্থিক সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে তাঁরা সবসাকুল্যে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অর্থাৎ একাধিক উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তি রোধে এই সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষভাবে সক্ষম (Divyang) মহিলাদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে পেতে পারেন।

সব মিলিয়ে, নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচে যাঁরা এতদিন চিন্তায় ছিলেন, তাঁদের জন্য এই ঘোষণা অত্যন্ত বড় প্রাপ্তি হতে চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ হলেই প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছে যাবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপ্য অর্থ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *