৫ মাসের বকেয়া বেতন আর ঋণের ফাঁদ! চরম পদক্ষেপে পুরসভার অস্থায়ী কর্মী, হাড়হিম করা ঘটনায় তোলপাড় মালদা

রাজ্যের নতুন সরকারের প্রশাসনিক নির্দেশিকা ও কাজ বন্ধের জেরে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক অস্থায়ী পুরকর্মী। পুরাতন মালদা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সামুণ্ডাই কলোনির বাসিন্দা বাপ্পা সরকার (৪০) নামের ওই নির্মল বন্ধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত গোটা মালদা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ঘরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে বেতন না মেলায় চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি, আর সেই ঋণের চাপেই তাঁর জীবন প্রদীপ নিভে গেল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পা সরকার পুরাতন মালদা পুরসভায় ‘নির্মল বন্ধু’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাড়িতে তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা মন্টু সরকার ও মা মিনতি দেবী ছাড়াও তিনি নিজে অবিবাহিত অবস্থায় একসঙ্গে থাকতেন। পরিবারের দাবি, রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কোনও মজুরি না পাওয়ায় সংসার চালাতে গিয়ে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন বাপ্পা। সম্প্রতি পাওনাদারদের লাগাতার তাগাদা এবং মৃত্যুর হুমকি তাঁকে চরম মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।
ঘটনার রাতে রাতের খাবার খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর গভীর রাতে নিজের ঘরে এই কাণ্ড ঘটান ওই কর্মী। পরিবারের এক সদস্য ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পরে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে মালদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনায় পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে তরতাজা এক কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শুক্রবার সকালেই মৃতের বাড়ির সামনে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীরা। বাপ্পার সহকর্মী বিপুল রায় জানান, তাঁদের অনেকেরই কয়েক মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে, ফলে ধারদেনা করেই কোনোমতে দিন কাটাতে হচ্ছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষও এই বকেয়া বেতনের বঞ্চনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি থেকে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন আসা বন্ধ থাকায় ৫ মাসের মজুরি বকেয়া পড়েছিল। যদিও সম্প্রতি দু’মাসের বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে চেয়ারম্যানের দাবি, পুরসভার বকেয়া বেতনের চেয়ে মূলত ব্যক্তিগত ঋণের ফাঁদেই জড়িয়ে পড়ে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাপ্পা। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শোকস্তব্ধ পরিবার ও এলাকাবাসী।