উত্তরবঙ্গবাসীকে বড় উপহার! করোনেশন ব্রিজের পাশে তৈরি হচ্ছে নতুন মেগা সেতু, জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এল বিরাট আপডেট

উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তব রূপ পেতে চলেছে সেবকের ঐতিহ্যবাহী করোনেশন ব্রিজের বিকল্প সেতু। তিস্তা নদীর উপর প্রস্তাবিত এই নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের প্রায় ৫৯১.৩১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ইপিসি মোডে কেন্দ্রীয় জাতীয় সড়ক অনুদানের আওতায় এই সুবিশাল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে চার লেনের সেতু তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের অর্থ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। উত্তরবঙ্গের এই সীমান্ত অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে চার লেনের পরিবর্তে প্রকল্পটিকে ছয় লেনের মহাসড়কে উন্নীত করার চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করা হয়। সেই প্রস্তাব মেনেই এখন প্রকল্পের নতুন রূপরেখা অনুমোদিত হয়েছে।

শুক্রবার এই খবর নিশ্চিত করে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল করোনেশন ব্রিজের একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বিকল্প সেতু। খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হতে চলেছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পাহাড়ের প্রতিটি মানুষের আশা ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ ধৈর্য এবং আস্থার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন সাংসদ।

প্রকল্পটির অনুমোদন ও দ্রুত অগ্রগতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সমগ্র দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রাজু বিস্তা। তাঁর মতে, অঞ্চলের সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সিকিম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নতুন ছয় লেনের সেতুটি আগামী দিনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করাই নয়, এই আধুনিক সেতু নির্মাণের ফলে শতবর্ষের কাছাকাছি পৌঁছনো জরাজীর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী করোনেশন ব্রিজের উপর থেকে ভারী যানবাহনের প্রবল চাপ ও ঝুঁকি স্থায়ীভাবে দূর হবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *