এবার থেকে ছাত্রীরা পাবেন সোজা ২ হাজার টাকা! স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আলিপুর ধনধান্য অডিটোরিয়ামে শুক্রবার আয়োজিত কন্যা রত্ন দিবসের বিশেষ মঞ্চ থেকে রাজ্যবাসীর জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে নারী শিক্ষা, সুরক্ষা এবং স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এ দিনের মঞ্চ থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করল কেন্দ্রের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক কারণে এতদিন রাজ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি। দেশের অন্যান্য রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে চললেও পশ্চিমবঙ্গ এতদিন এর সুফল থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকারের হাত ধরে অবশেষে সেই বাধা কাটল। এ দিনের অনুষ্ঠান থেকেই ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর পাশাপাশি ‘পালনা’ প্রকল্প এবং মহিলাদের আপৎকালীন সহায়তার জন্য জরুরি ‘181 হেল্পলাইন’ চালু করা হয়েছে। নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায় এবং পূর্ণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছাত্রীদের পড়াশোনা যাতে কোনওভাবেই অর্থের অভাবে থমকে না যায়, সে বিষয়ে এদিন বড় সুখবর শুনিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রীদের মাসিক বা বার্ষিক আর্থিক অনুদান এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সোজা দু’হাজার টাকা করা হবে। পাশাপাশি আগের সরকারের আমলের সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিও আগের মতোই চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে স্কুলগুলির যাচাই সম্পন্ন হওয়া ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ৪২০ কোটি টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
উচ্চশিক্ষা এবং মেধাবী পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতেও একাধিক নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে ঘোষিত ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের নামী প্রতিষ্ঠানে কিংবা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়তে যাওয়া ছাত্রীরা বড় অংকের আর্থিক সহায়তা পাবেন। এছাড়া ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়াদের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পও আগের মতো চালু থাকবে।
নারীর অধিকার এবং শিক্ষার অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং মাতঙ্গিনী হাজরার আদর্শকে স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, কন্যাদের শিক্ষা, স্বনির্ভরতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজ থেকে সমস্ত ধরনের বৈষম্য দূর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন এই কন্যা রত্ন দিবসের মঞ্চ থেকে সরকারের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, অর্থাভাবে বাংলার কোনও মেয়ের স্বপ্ন এবার আর মাঝপথে থেমে থাকবে না।