এক বিন্দুও টের পাননি তরুণী, তার দিকে তাকিয়েই এই কাজ করছেন এক ব্যক্তি! অতঃপর যা হলো….

বিমানবন্দরের ব্যস্ততা আর একঘেয়ে অপেক্ষার মাঝে ঘটে গেল এক মিষ্টি মুহূর্ত, যার উষ্ণতা এখন ছুঁয়ে যাচ্ছে নেটদুনিয়ার অগুনতি মানুষের মন। নিজের উড়ানের অপেক্ষায় টার্মিনালে বসেছিলেন এক বিদেশি তরুণী। তিনি টেরও পাননি, দূর থেকে শান্ত ভঙ্গিতে এক শিল্পী নিজের ক্যানভাসে জীবন্ত করে তুলছেন তাঁরই মুখচ্ছবি। সম্পূর্ণ অচেনা এক মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সেই ছোট্ট উপহার আর তরুণীর মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে দৃশ্যটি নিমেষেই মন জয় করে নিয়েছে সামাজিক মাধ্যমের।

শিল্পী ববি সালাদি তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজে এই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “এক বিদেশিনীর এই প্রতিক্রিয়া আমার দিনটি তৈরি করে দিল।” ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, টার্মিনালের এক কোণে বসে একমনে তরুণীর পোট্রেট আঁকছেন ববি। তরুণী তখনও সম্পূর্ণ অন্ধকারে যে তিনি কারো আর্টের প্রেরণা হয়ে উঠেছেন। স্কেচ শেষ করার পর শিল্পী ছবিটি তরুণীর পাশে বসা এক সহযাত্রীর হাতে তুলে দেন, যাতে তিনি সেটি তাঁর কাছে পৌঁছে দেন। নিজের হাতে আঁকা ছবিটা দেখার মুহূর্তে তরুণীর মুখে যে হাসি ফুটে ওঠে, তা-ই ভিডিওটির সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কেবল ধন্যবাদ জানিয়ে বসে থাকেননি তিনি, বরং নিজ পায়ে হেঁটে শিল্পীর কাছে এগিয়ে এসে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের প্রশংসার বন্যায় ভেসে যায় কমেন্ট বক্স। সাধারণ এক সংযোগ আর ভালোবাসার এই ভাষা স্পর্শ করেছে বহু মানুষকে। কেউ লিখেছেন, “তিনি সত্যিই খুব মিষ্টি, আর ছবিটাও অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “শিল্পীরা এভাবেই মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে দৈনন্দিন জীবনে সুন্দর স্মৃতি তৈরি করেন।” তরুণীর নিজে উঠে এসে শিল্পীকে সম্মান জানানোর ভঙ্গিকেও আলাদা করে বাহবা জানিয়েছেন অনেকে; তাঁদের মতে, এটি অত্যন্ত মার্জিত এবং সুন্দর এক শ্রদ্ধার নিদর্শন। এক ব্যবহারকারী তো মনের সুপ্ত ইচ্ছে প্রকাশ করে বলেই ফেলেছেন, “ইশ! কেউ যদি বিমানবন্দরে বসে আমারও এমন একটা ছবি এঁকে দিত, তবে দিনটাই ভালো হয়ে যেত।”

অচেনা দুই মানুষের এই ক্ষণিকের মানবিক মেলবন্ধন ফের প্রমাণ করে দিল, ভাষার সীমানা পেরিয়ে মানুষের সরল হাসি এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতি পৃথিবীর সব প্রান্তেই এক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *