রাতের অন্ধকারে ঘুঙুরের আওয়াজ আর কান্নার শব্দ! হস্টেল ছেড়ে পালালো ৬০০ পড়ুয়া, নেপথ্যে কি তবে অন্য রহস্য?

হস্টেলে টিকতে পারছে না পড়ুয়ারা। আতঙ্কে একে একে সবাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু কীসের এমন আতঙ্ক? কারো দাবি হস্টেলের ভেতরে অলৌকিক কিছু ঘটছে, আবার কেউ বলছে ভূতের ভয়েই জীবন ওষ্ঠাগত। এই আজব ও চাঞ্চল্যকর গুজবের জেরে শেষ পর্যন্ত হস্টেল ছেড়ে পালিয়েছেন ৬০০-রও বেশি পড়ুয়া।
মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় অবস্থিত একটি সরকারি হস্টেলে এই ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে একজন পড়ুয়াও আর সেখানে থাকতে চাইছে না। এই চরম আতঙ্কের সূত্রপাত হয় যখন প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করতে শুরু করেন যে, রাতেরবেলা হস্টেলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রহস্যজনক নানা আওয়াজ আসছে। কোথাও গভীর রাতে ঘুঙুরের জুমঝুম শব্দ, তো কোথাও আবার অচেনা মহিলা কণ্ঠে হাসি কিংবা কান্নার শব্দ শুনতে পান তাঁরা। এই খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই বাকি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামে স্কুল কর্তৃপক্ষ। হস্টেলের ভূতের ভয় এতটাই মারাত্মক আকার নেয় যে শেষ পর্যন্ত ২৬৩ জন ছাত্র এবং ৩৪৫ জন ছাত্রী বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। স্কুলের হেডমাস্টার সঞ্জয় চৌধুরী জানিয়েছেন, ছাত্রীদের কাছ থেকে এই ধরনের অদ্ভুত অভিযোগ পাওয়ার পরই তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রখ্যাত সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনস্তত্ত্ববিদ দিয়ে তাদের কাউন্সেলিং করানো হয়। বিশদ পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্রীদের এই মানসিক অবস্থার সঙ্গে ‘সিভিয়ার হিস্টেরিয়া’-র গভীর যোগ রয়েছে। অর্থাৎ, পড়ুয়ারা অত্যন্ত তীব্র মানসিক উত্তেজনা এবং হুজুগে বা অন্ধবিশ্বাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।
এদিকে, স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিক অভিষেক নাইডু সমস্ত পড়ুয়া এবং অভিভাবক ও মেস কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন কোনও ধরনের ভূত বা অলৌকিক গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত না হন। নিশ্চিতভাবেই এর নেপথ্যে অন্য কোনও মনস্তাত্ত্বিক বা পরিবেশগত সমস্যা কাজ করছে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আর্জি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।