স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে খাস কলকাতায় নেতাজির মূর্তি ভাঙচুর! তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে খাস কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিউ আলিপুর এলাকায়।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই কলকাতার বুকে এমন এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল। নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা নেতাজির একটি মূর্তির ডান হাত ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

এর আগে গত বুধবারই বাংলার মাটিতে নেতাজিকে নিয়ে কোনো অপমানজনক মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নিউ আলিপুরে নেতাজির মূর্তিতে ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার বাসিন্দাদের প্রথম বিষয়টি নজরে আসে। তারা দেখেন নেতাজি মূর্তির ডান হাতটি ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি চাউর হয়ে যায়। কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মূর্তির পাদদেশে জড়ো হয়ে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান। ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘নেতাজীর অপমান নহি সহেঙ্গে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীদের ঘটানো একটি ঘটনা। তবে নেপথ্যে ঠিক কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রাতে ওই চত্বরে কারা ঘোরাফেরা করেছিল এবং কীভাবে মূর্তিটি ভাঙা হলো, তার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর দ্রুত মূর্তিটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় বিজেপি শিবির। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন ওই জায়গায় নতুন মূর্তি স্থাপন করে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানানো হবে বলেও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *