নিয়ম ভাঙলে এবার আর রক্ষা নেই! এয়ার ইন্ডিয়ার শেষ টাউনহলে কর্মীদের ওপর বেজায় চটলেন সিইও

এয়ার ইন্ডিয়ার অন্দরে নিয়মের কড়াকড়ি আরও বাড়ল। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসন সাম্প্রতিক এক টাউনহলে কোম্পানির কর্মী ও পাইলটদের আচরণ এবং শৃঙ্খলা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, নিয়ম ভাঙার ঘটনা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাত্রীদের সুরক্ষা ও পেশাদারিত্বের মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে এবার কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বিমান সংস্থাটি।
টাউনহলে সিইওর ক্ষোভ ও সতর্কবার্তা
বৈঠকে কর্মীদের উদ্দেশে ক্যাম্পবেল উইলসন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কাউকে পাহারা দেওয়ার জন্য বসিয়ে রাখা হয়নি; নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই প্রত্যেককে সঠিক কাজটি করতে হবে। কোম্পানির অন্দরে নজরদারি এবং কড়া যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আগামী দিনে আরও কঠোর করা হবে বলে তিনি জানান।
সিইওর মতে, এয়ার ইন্ডিয়ার মূল সমস্যা কেবল আইন বা নিয়মের ফাঁকফোকড় নয়, বরং কাজের সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত আত্মশৃঙ্খলার অভাব। সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পোক্ত করতে কর্মীদের নিজেদের থেকেই দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাইলটদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং শুরু
শুধু মৌখিক সতর্কবার্তাই নয়, বাস্তবেও কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার সমস্ত গ্রুপ পাইলটের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাইলটরা নিষিদ্ধ কোনো পদার্থ বা ওষুধ সেবন করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পরীক্ষা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই বাধ্যতামূলক পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গুরুগ্রামের অ্যাকাডেমি ছাড়াও ফ্লাইটের পর ব্রিফিং সেন্টার, এয়ার ইন্ডিয়ার অফিস এবং বিভিন্ন নির্ধারিত বেসে এই স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, ভারতীয় বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-র সমস্ত নিয়মবিধি তারা ইতিমধ্যেই নিখুঁতভাবে মেনে চলে। এমনকি ইউরোপ বা আমেরিকার মতো উন্নত দেশের এভিয়েশন স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সাধারণ যাত্রী, অংশীদার এবং বৃহত্তর সমাজের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে নির্ধারিত নিয়মের থেকেও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এই বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।
সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এই ধরনের উদ্যোগ কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য নয়, বরং বিমান যাত্রার নিরাপত্তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টা।