কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের সমান হবে রাজ্যের বেতন? DA-র সঙ্গে বড় চমক নিয়ে এল নবান্ন

রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়ে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল নবান্ন। সরকারি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন কমিশনের পর্যালোচনার অধীনে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলস্বরূপ, মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের জেরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের সামগ্রিক বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় সরকারি কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই সমস্ত তথ্য খুব শীঘ্রই ওই পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের স্যালারি হাইক বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পর্যালোচনা করা এই মুহূর্তে কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতনের ফারাক কমানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কমিশন। বর্তমান বেতন কাঠামো, মহার্ঘ ভাতা, বিশেষ ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলিকেও নতুন করে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যালোচনার আওতায় থাকা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভাতাগুলির মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহন ভাতা, সন্তানদের শিক্ষা ভাতা এবং ছাত্রাবাস ভর্তুকি। পাশাপাশি, সংশোধিত বেতন কাঠামোর অধীনে কর্মচারীদের ‘বেসিক পে’ বা প্রাথমিক বেতন কীভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত, তা নিয়েও কাজ শুরু করেছে কমিশন। দীর্ঘ ১১ বছর পর এককালীন পেনশন পুনঃস্থাপন, অবসরের পর ছুটির হিসেব এবং ৩০ জুন অবসর গ্রহণকারী কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধির মতো একাধিক দীর্ঘদিনের দাবিও এবার নতুন করে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২২ জুলাই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়। এরপরেই সমস্ত তথ্য এক ছাদের নিচে আনতে পোর্টাল চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারের মতে, এই নির্দিষ্ট পোর্টালটি চালু হলে কর্মী ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা বিভ্রান্তিকর খবরের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
যদিও কমিশন বর্তমানে তাদের কাজের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করা হয়নি। তবুও সঠিক ও যাচাই করা তথ্য সরাসরি কর্মচারীদের কাছে পৌঁছে দিতে এই ওয়েবসাইটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বেতন কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস (IAS) আধিকারিক অতনু চক্রবর্তী এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইএএস আধিকারিক দেবীপ্রসাদ কর্ণম।