নজরদারি থেকে কল্যাণমুখী প্রকল্প— আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বাড়বাড়ন্তে নৈতিকতা নিয়ে বড় নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং এর নৈতিকতা নিয়ে এবার বড় পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারি প্রকল্প এবং নজরদারি ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনজীবী নরেন্দ্র কুমার গোস্বামী এই বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, সরকারি নীতি এবং নজরদারি ব্যবস্থায় যে সমস্ত এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ঝুঁকি এবং কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা দরকার। মামলাকারীর আর্জি ছিল, একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে এআই-এর নৈতিকতার সীমা নির্ধারণ, পক্ষপাতিত্বের নিরীক্ষা (bias audit), এবং ডেটা সুরক্ষার মতো বিষয়গুলির জন্য কঠোর নিয়ম তৈরি করা হোক। একই সঙ্গে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি এআই ব্যবস্থায় মানুষের সরাসরি তদারকি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালগরিদমিক প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছিল।
এদিনের শুনানিতে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে যে বিষয়টির গভীরে উচ্চ প্রযুক্তি এবং নীতি নির্ধারণের মতো ক্ষেত্র জড়িয়ে রয়েছে। আদালত মামলাকারীকে এই বিষয়ে যথাযথ রিট পিটিশন দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এবং এর সঠিক নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও এই বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। প্রযুক্তির এই যুগে এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট সংসদীয় আইন বা নির্দেশিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইনি মহলেও ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে।