রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে কি আর ভুলেও দুধ খাওয়া যাবে না? পুষ্টিবিদদের আসল সত্য জানলে চমকে উঠবেন!

আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় দুধ একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও অপরিহার্য খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। ছোট থেকে বড়—সকলের সুস্বাস্থ্য ও হাড়ের মজবুত গঠনে দুধের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি একবার বৃদ্ধি পায়, তবেই শুরু হয় যত বিপত্তি। উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই দ্বিধায় ভোগেন যে, তাঁদের জন্য দুধ খাওয়া আদৌ নিরাপদ কি না। পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ জানা থাকলে কোলেস্টেরলের রোগীরাও নিরাপদে দুধ খেতে পারেন।

উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের কি দুধ খাওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, দুধ পুরোপুরি বর্জন করার কোনো প্রয়োজন নেই, তবে দুধের ধরন এবং খাওয়ার পরিমাণে কড়াকড়ি নজর রাখা জরুরি। পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত বা ফুল ক্রিম দুধে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।

তবে এর বিকল্প হিসেবে যদি স্কিমড মিল্ক বা ফ্যাট-ফ্রি দুধ খাওয়া হয়, তবে তা শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। স্কিমড দুধে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম ঠিকই থাকে, অথচ ফ্যাট বা চর্বির মাত্রা থাকে অত্যন্ত কম।

দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি
ফ্যাট-ফ্রি দুধ বেছে নিন: যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তাঁরা ফুল ক্রিম দুধের বদলে লো-ফ্যাট বা স্কিমড মিল্ক কিংবা উদ্ভিজ্জ বিকল্প যেমন আলমন্ড মিল্ক বা ওট মিল্ক বেছে নিতে পারেন।

পরিমাণের দিকে নজর দিন: সারাদিনে অতিরিক্ত পরিমাণে দুধ পান না করে এক কাপ বা সীমিত পরিমাণে তা খাওয়ার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত মালাই বা সর তুলে ফেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

চিনি ও মিষ্টি বর্জন করুন: দুধে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি মিশিয়ে খেলে তা কেবল ওজনই বাড়াবে না, বরং মেটাবলিজমের গতি ধীর করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করবে।

তাই উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে মানেই দুধের পুষ্টিগুণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলেই শরীর সুস্থ ও চনমনে রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *