ডায়াবেটিস কি নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে? কোন বয়সে কত দিন অন্তর পরীক্ষা করাবেন? জানলে চমকে উঠবেন!

আমাদের শরীরে নীরবে বাসা বাঁধা রোগগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ডায়াবেটিস বা প্রমেহ। একে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ শুরুর দিকে এর লক্ষণগুলি সহজে বোঝা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সুস্থ থাকার জন্য ঠিক কত দিন অন্তর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা বা ডায়াবেটিস টেস্ট করানো উচিত? চিকিৎসকদের মতে, বয়স, জিনেটিক ইতিহাস এবং শরীরের সার্বিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরীক্ষা করানোর সঠিক নিয়ম একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে।

বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী পরীক্ষার সঠিক নিয়ম
স্বাভাবিক বয়স ও স্বাস্থ্য (৩০ বছরের নিচে): যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিসের কোনো পূর্ব ইতিহাস নেই এবং শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রতি ১ থেকে ৩ বছর অন্তর সাধারণ ব্লাড সুগার পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

চল্লিশোর্ধ্ব বয়স: বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলে শরীরে মেটাবলিজমের গতি ধীর হতে শুরু করে এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তাই ৪০ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর অন্তত একবার নিয়মিত রুটিন চেকআপ হিসেবে ফাস্টিং ব্লাড সুগার এবং HbA1c পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

প্রাক-ডায়াবেটিস বা পারিবারিক ইতিহাস: যাঁদের বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস রয়েছে কিংবা অতীতে রক্তে শর্করার মাত্রা একটু বেশি পাওয়া গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বয়স ৩০ বছর বয়স থেকেই প্রতি ৬ মাস বা এক বছর অন্তর ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে স্ক্রিনিং করা উচিত।

গর্ভাবস্থা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার নির্দিষ্ট সপ্তাহে জেসটেশনাল ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে বয়স নির্বিশেষে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ঘন ঘন সুগার পরীক্ষা করানো উচিত।

ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক সময়ে তা ধরা পড়লে জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই সামান্য অবহেলা না করে আজই সচেতন হোন এবং নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক সময়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *