NRS হাসপাতালের শৌচালয় থেকে উদ্ধার কর্তব্যরত নার্সের দেহ, রাতে ডিউটি ছিল স্ত্রীরোগ বিভাগে

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (NRS Medical College and Hospital) স্ত্রীরোগ বিভাগের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট বা এইচডিইউ (HDU)-এর শৌচালয় থেকে এক কর্তব্যরত নার্সের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা চত্বরে। মৃত ওই নার্সের নাম রূপালী। প্রাথমিক অনুমান, অ্যানেস্থেশিয়া-সংক্রান্ত কোনো শক্তিশালী ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ (Overdose) নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। যদিও মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই পুরোপুরি স্পষ্ট হবে। এই ঘটনার পরেই মৃত নার্সের সঙ্গে সেই রাতে ডিউটিরত অন্য চারজন নার্সকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে এন্টালি থানার পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ
হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, রূপালীর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এর আগে এনআরএস থেকেই তিনি নার্সিংয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি এই হাসপাতালেই বদলি হয়ে এসেছিলেন।

বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-তে তাঁর নাইট ডিউটি ছিল। রাত আটটা নাগাদ তিনি হাসপাতালেও কাজে যোগ দেন। নার্সিং স্টেশনে আসার পর তিনি ফেন্টানিল (Fentanyl)-এর তিনটি ভায়াল সংগ্রহ করে শৌচালয়ে চলে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি শৌচালয়ে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও (১০টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত) তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।

সহকর্মীরা শৌচালয়ের দরজার সামনে গিয়ে বারবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। অবশেষে রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে অচৈতন্য অবস্থায় রূপালীকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশের তদন্ত ও অন্যান্য দিক
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমান, শিরায় ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ফেন্টানিল জাতীয় কোনো ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি নিজে থেকেই স্বেচ্ছায় ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পেশাগত চাপ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই এনআরএস হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এন্টালি থানার পুলিশ এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকেরা। তাঁরা হাসপাতালের অন্য কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, মৃতার পারিবারিক জীবন বা তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে কোনো প্রেমঘটিত বা ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *