এবার ভারত থেকে তেল কিনছে রাশিয়া? নেপথ্যের কারণ জানলে চমকে যাবেন

বিশ্ব রাজনীতি এবং জ্বালানি বাজারের প্রচলিত সমীকরণকে পুরোপুরি উল্টে দিয়ে এবার ভারতের কাছ থেকে তেল বা পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কিনতে শুরু করল রাশিয়া। এতদিন ধরে গোটা বিশ্ব দেখে এসেছে যে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে সস্তা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে এসেছে ভারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও এবার ভারতের কাছ থেকে সরাসরি পেট্রোল আমদানি করছে, যা দেখে অবাক তাবড় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে ভারতের থেকে পেট্রোল কিনছে রাশিয়া?
ব্লুমবার্গ এবং রয়টার্সের একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অগাস্ট ভারতের নায়ারা এনার্জি লিমিটেড (Nayara Energy)-এর কাছ থেকে প্রায় ৪২ হাজার ব্যারেল পেট্রোলের একটি শিপমেন্ট পেয়েছে রাশিয়া। এটিই ছিল ভারতের কাছ থেকে রাশিয়ার সরাসরি পেট্রোল কেনার প্রথম ঘটনা।
তবে শুধু সরাসরি নয়, এর আগেও ঘুরপথে তেল সংগ্রহ করেছে মস্কো:
-
১৮ জুন রাশিয়ার জাহাজ ‘সাইক্লোন’ গুজরাতের ভাদিনার বন্দর থেকে ৪২ হাজার টন পেট্রোল বোঝাই করে রওনা দেয়।
-
পরবর্তীতে ৬ জুলাই মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরের কাছে সেই জ্বালানি ওমানের পতাকাবাহী জাহাজ ‘গারনেট’-এ স্থানান্তর করা হয় এবং অগস্টের শুরুতে তা রাশিয়ায় পৌঁছয়।
-
জুলাই মাসেও একইভাবে ভাদিনার বন্দর থেকে জ্বালানি বোঝাই করে আরও একাধিক ট্যাঙ্কার রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোলের প্রথম বড় শিপমেন্টের পর ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একাধিক ট্যাঙ্কারও পাঠানো হয়েছে।
রাশিয়া হঠাৎ ভারত থেকে তেল কিনছে কেন?
রাশিয়ার মাটিতে অপরিশোধিত তেলের বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে হঠাৎ কেন জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিল? এর মূল উত্তর লুকিয়ে রয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির মধ্যে।
-
ইউক্রেনের লাগাতার ড্রোন হামলা: দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী একটানা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আক্রমণ ২০২৬ সালে এসে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
-
ক্ষতিগ্রস্ত শোধনাগার: রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার অন্তত ১৬টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে জুন থেকে অগাস্টের মধ্যে আরও ১৫টি শোধনাগার ও পরিশোধন কেন্দ্র হামলার মুখে পড়ে। বিশেষ করে জুলাই ও অগাস্ট মাসে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার—ওমস্ক, রিয়াজান এবং ওরস্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই লাগাতার ড্রোন হামলার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদন ও পরিশোধন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। দেশটিতে পেট্রোলের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের ভারতের মতো দেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।