দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে গড়িমসি! লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে সরাসরি ডেডলাইন দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ টালবাহানা এবং গড়িমসির অভিযোগে এবার সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেন, তবে বাধ্য হয়েই যে দল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে, সেই কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তৃণমূল।
১. স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেকের প্রধান দাবিগুলি
এদিন অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ-সহ দলের একটি প্রতিনিধিদল লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকের পর অভিষেক স্পষ্ট জানান যে, গত জুলাই মাসে প্রতিনিধিদল দেখা করার পর প্রায় কুড়ি দিন কেটে গেলেও স্পিকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তৃণমূলের মূল অভিযোগগুলি হলো:
-
দলত্যাগীদের দ্বিমুখী নীতি: দলের একাধিক সাংসদ বর্তমানে নিজেদের নতুন দল ‘NCPI’-এর সাংসদ হিসেবে প্রকাশ্যে পরিচয় দিলেও, লোকসভার দাপ্তরিক নথিতে বা অধিবেশনের সময় এখনও তাঁদের নামের পাশে ‘AITC’ (তৃণমূল কংগ্রেস) লেখা থাকছে। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও ঘাসফুল প্রতীক সামনে রেখে নির্বাচিত হয়ে অন্য পরিচয় দাবি করছেন, তাঁদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা বাধ্যতামূলক।
-
ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা: দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) লঙ্ঘন করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি পৃথক ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন জমা দেওয়া হয়েছে। গত জুন মাস থেকে আবেদন করা হলেও এখনও কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়নি।
২. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও আদালতের পথ খোলা রাখার হুঁশিয়ারি
অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পিকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি স্পিকার কোনো পদক্ষেপ না করেন, তবে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে দল। স্পিকারের সামনে এখন পরিষ্কার দুটি পথ রয়েছে—হয় ওই দলত্যাগী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক, নতুবা দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের পদ খারিজ করা হোক।
৩. কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন ও স্পিকারের আশ্বাস
এছাড়াও এদিনের বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের বিষয়টিও বিশেষভাবে উত্থাপন করেন অভিষেক। তবে এই সমস্ত বিষয়ে স্পিকার তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনের আগেই সামগ্রিক বিষয়গুলি বিবেচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর, স্পিকারের এই আশ্বাসের পর শেষ পর্যন্ত দিল্লি ও কলকাতার রাজনীতি কোন মোড় নেয়।