জঙ্গলমহলে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ নিয়ে কঠোর হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর! বড় পদক্ষেপের ঘোষণা বাঁকুড়ার বৈঠকে

জঙ্গলমহল ও প্রান্তিক এলাকায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং বৈদেশিক অর্থ সাহায্য নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় ৭টি জেলাকে নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের বিগত তিন মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি একাধিক বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

জঙ্গলমহল ও রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাগুলিতে বৈদেশিক তহবিলের সাহায্যে চলা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ধর্মান্তর চক্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ও আপসহীন অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ৭টি জেলার প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায় বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের বিগত তিন মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি একাধিক বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাঁকুড়ার বৈঠকে জঙ্গলমহলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও আদিবাসী মানুষের সরলতার সুযোগ নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বৈদেশিক অর্থের সাহায্যে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে যে ধর্মান্তরকরণের প্রক্রিয়া চলছে, সে বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

সরকারের বিভিন্ন বড় সিদ্ধান্তের খতিয়ান: এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের সরকারের বিগত তিন মাসের একাধিক সাহসী ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই—

  • সীমান্তে জমি হস্তান্তর নীতি সংশোধন,

  • ওবিসি (OBC) তালিকা সংশোধন,

  • ইমাম-মোয়াজ্জেম ভাতা বাতিল,

  • এবং গো-সুরক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, মহরমের মিছিলে তলোয়ার বা অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গটিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি।

ইউসিসি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা: এরপরই দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “কিছুদিনের মধ্যেই UCC আসবে। এক দেশ এক প্রধান, এক রাজ্য, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন।” এই রেশ ধরেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের বাকি থাকা কাজের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আর দুটো কাজ আমার বাকি থাকবে। ধর্ম পরিবর্তন ও জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আইন আনা। এটা আমি করছি।” জঙ্গলমহলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও এদিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *