কাগজের নোটের দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? পকেটে আসছে পলিমার কারেন্সি, কবে থেকে মিলবে এই নতুন নোট?

পকেটে থাকা অবস্থায় নোট ভিজে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো চিরচেনা সমস্যার হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর লক্ষ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (RBI) পরীক্ষামূলকভাবে নোট বাজারে আনার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।

সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি মূল্যমানের ১০০ কোটি করে পলিমার নোট তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, ১০ টাকার ১০০ কোটি এবং ২০ টাকার ১০০ কোটি—মোট ২০০ কোটি প্লাস্টিক নোট ছাপানো হবে, যার সামগ্রিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এই সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।

কবে নাগাদ হাতে মিলবে এই প্লাস্টিকের নোট? রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই পলিমার নোটগুলি বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোটগুলির পাশপাশিই সমান্তরালভাবে বাজারে জারি করা হবে। অর্থমন্ত্রী জানান যে, পলিমার নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের বা কেনার প্রক্রিয়া এখনও একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সেই কারণে এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে নোটগুলি ঠিক কবে নাগাদ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছবে কিংবা সেগুলি উৎপাদনে বা কিনতে ঠিক কত খরচ পড়বে।

তবে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষের (FY27) শুরুতেই এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। যদি এই পরীক্ষা পুরোপুরি সফল হয়, তবে আগামী ২০২৮ সালের (FY28) মধ্যে দেশের সমস্ত প্রান্তে পাকাপাকিভাবে এই প্লাস্টিকের নোটগুলি চালু করে দেওয়া হবে।

প্লাস্টিকের নোটের খরচ ও সুবিধা: সাধারণ কাগজের তুলনায় প্লাস্টিকের নোট তৈরির প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হয়। যেমন, বর্তমানে একটি কাগজের ১০ টাকার নোট ছাপাতে আরবিআইয়ের খরচ হয় প্রায় ১.০১ টাকা। পক্ষান্তরে, পলিমার শিট ও উন্নত সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যের কারণে একটি ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট তৈরি করতে আনুমানিক ২ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এই নোটগুলি অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হবে। সাধারণ কাগজের নোট দ্রুত ময়লা হয়ে যায়, ভিজে ছিঁড়ে যায় বা রং ফিকে হয়ে যায়, ফলে আরবিআইকে ঘন ঘন তা বদলাতে হয়। এর বিপরীতে, পলিমার নোট কাগজের তুলনায় অন্তত তিন থেকে চার গুণ বেশি দিন টেকে। জল, ঘাম, তেল বা ময়লার কারণে এই নোটগুলির সহজে কোনো ক্ষতি হয় না। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর সহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ইতিমধ্যেই এই পলিমার নোট সফলভাবে প্রচলিত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *