মদের আসরে বচসার জের? বিটেক গ্র্যাজুয়েটের ঘরে মিলল ১৯ বছরের তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ!

উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বারৌলা গ্রামের একটি পেয়িং গেস্ট (PG) আকাবাস থেকে আসামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। পিজি-র দোতলায় বসবাসকারী এক যুবকের ঘর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক ঘর বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে চম্পট দিয়েছে।

🚨 এক নজরে প্রধান ৩টি বিষয়:

  • রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার: নয়ডার একটি পিজি-র ঘর থেকে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর অসংখ্য আঘাতের চিহ্নযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • অল্প কিছুদিন আগেই আগমন: নিহত তরুণী মাত্র তিন সপ্তাহ আগে আসাম থেকে পালিয়ে নয়ডায় এসেছিলেন।

  • মদপান নিয়ে বিতর্ক: প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মদপানকে কেন্দ্র করে হওয়া বচসার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর নাম মেহক আহমেদ, বাড়ি আসামের ডিব্রুগড়ে। দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পর তিনি পরিবারকে না জানিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে নয়ডায় চলে আসেন। বারৌলা গ্রামের ওই পিজি-তে তিনি তার পুরোনো বান্ধবী সঞ্জনার সঙ্গে থাকতেন। অন্যদিকে, একই বাড়ির দোতলার একটি ঘরে থাকত বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা রমন। অভিযুক্ত রমন বি.টেক ডিগ্রিধারী এবং পূর্বে একটি আইটি সংস্থায় কাজ করত বলে জানা গেলেও, স্থানীয়দের দাবি সে বেশ কিছুদিন ধরে বেকার ছিল।

কীভাবে ফাঁস হলো পুরো ঘটনা?

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ৮ই আগস্ট রাতে মেহক ও তার বান্ধবী সঞ্জনা রুমের বাইরে লবিতে ছিলেন। সেই সময় রমন তার ঘরের বাইরে বসে মদের আসর জমিয়েছিল এবং মদপান করছিল। তা নিয়েই উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি হয়।

পরের দিন, অর্থাৎ ৯ই আগস্ট সঞ্জনা কোনো কাজে বাইরে গেলে মেহক পিজি-তেই ছিল। সঞ্জনা ফিরে এসে মেহককে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে, কারণ মেহকের ফোনও বন্ধ ছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই পিজি-র অন্যান্য বাসিন্দারা রমনের ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বাইরে থেকে ঘরটিতে তালা ঝুলছিল এবং রমনও উধাও ছিল। এরপর বাড়িওয়ালাকে খবর দেওয়া হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও ফরেনসিক দল। তারা ঘর থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পলাতক অভিযুক্ত রমনের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *