“বিয়ের তারিখ বারবার বদলাত…” খেসারি লাল যাদবের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি কাজল রাঘওয়ানির

জিও হটস্টারের (JioHotstar) জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ভোজপুরি বাওয়াল’ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার হট টপিক। এই শো-তে পবন সিং, নিরহুয়া, আম্রপালি দুবের মতো ভোজপুরি ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তারকারা তাঁদের মিউজিক, কেরিয়ারের সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত জীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করছেন। আর এই শো-এর সাম্প্রতিক একটি পর্বে ভোজপুরির অন্যতম চর্চিত জুটি কাজল রাঘওয়ানি এবং রানী চ্যাটার্জীর খোশগল্পে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।
বিশেষ করে খেসারি লাল যাদবের (Khesari Lal Yadav) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন কাজল রাঘওয়ানি, যা ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
খেসারি ও কাজলের পুরনো সমীকরণ
একসময় ভোজপুরি সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অন-স্ক্রিন ও অফ-স্ক্রিন চর্চিত জুটি ছিলেন কাজল রাঘওয়ানি ও খেসারি লাল যাদব। একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তারা প্রায় পাঁচ বছর সম্পর্কে ছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু পরবর্তীতে নানান বিতর্ক এবং ভুল বোঝাবুঝির জেরে তাদের সম্পর্কে চির ধরে ও বিচ্ছেদ ঘটে। দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে ‘ভোজপুরি বাওয়াল’-এর মঞ্চে খেসারিকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কাজল।
কাজলের বড় বিস্ফোরক দাবি: “আত্মহত্যার হুমকি দিত”
শো-এর দ্বিতীয় পর্বে খেসারি লাল যাদবের সরাসরি নাম না নিলেও কাজল এমন কিছু ইশারা ও মন্তব্য করেন, যা থেকে বুঝতে বাকি থাকে না যে তিনি কার কথা বলছেন। কাজল বলেন:
“সে নিজেকে সবসময় খুব অসহায় হিসেবে জাহির করত। আমার কোনো সাক্ষাৎকারের পরই সে কাঁদতে শুরু করত। কিন্তু তার চারপাশের লোকজন—যেমন প্রযোজক ও পরিচালকেরা—আমার কাছে এসে বলত যে সে মারা যাবে, আত্মহত্যা করবে, তাকে বাঁচাও! আর আমি স্বভাবগতভাবে আবেগপ্রবণ হওয়ায় সেই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলতাম। এভাবেই আমি পুরোপুরি ফেঁসে গিয়েছিলাম।”
“প্রতি বছর বলত পরের বছর বিয়ে করব”
বিয়ে নিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কথা ফাঁস করে কাজল আরও জানান যে, খেসারি তাঁকে নিয়মিত বিয়ের ভুয়া আশ্বাস দিতেন। অভিনেত্রীর কথায়:
“আমাদের বিয়ের তারিখ বারবার বদলাত। প্রতি বছরই সে কথা দিত যে আমরা পরের বছরই পাকাপাকিভাবে বিয়ে করব।”
সহ-প্রতিযোগী রানী চ্যাটার্জী যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন যে তিনি কীভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে খেসারি তাঁকে বিয়ে করবেন, তখন কাজল জানান, “সে সময় আমি বেশ তরুণী ছিলাম, তাই তাঁর কথায় বিশ্বাস করে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।”
ট্রোলিং এবং বিবাহিত পুরুষের প্রেম নিয়ে খোলামেলা কথা
সম্পর্ক ভাঙার পর তাঁকে কীভাবে সামাজিক মাধ্যমে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তাও শেয়ার করেছেন কাজল। তাঁর দাবি, খেসারির ঘনিষ্ঠ অনুগামী বা তাঁর “নিজের লোকেরাই” তাঁকে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ট্রোল করত। পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে যায় যে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া সাময়িকভাবে ব্যবহার করাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
এছাড়া ইন্ডাস্ট্রির অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কথাও তুলে ধরেছেন কাজল। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমার এক বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ঠিকই, কিন্তু আমাকে বোঝানো হয়েছিল যে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং শীঘ্রই তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যাবে। আমি এটাই বলতে চাই— আপনারা নিজেরাও তো বিবাহিত হয়ে প্রেমে পড়তে পারেন, আর আমরা কোনো বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়লেই সেটা অপরাধ হয়ে যায়?”