পরিবারের সই ছাড়াই অভয়ার দেহ দাহ কেন? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই খড়দা থানায় নতুন FIR, নাম জড়াল ৩ প্রভাবশালী নেতার

আর জি কর কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এবার মৃতদেহ দ্রুত সৎকার ও তথ্যপ্রমাণ লোপাট সংক্রান্ত অভিযোগে নতুন মোড় নিল তদন্ত। শ্মশানে ‘অভয়া’র মৃতদেহ কেন এত দ্রুত দাহ করা হয়েছিল এবং নিহতের পরিবারের কোনো সই বা সম্মতি ছাড়াই কীভাবে তা সম্পন্ন হলো—এই প্রশ্নগুলিকে সামনে রেখে খড়দা থানায় নতুন করে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর অভয়ার বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও নতুন এফআইআর
আর জি কর কাণ্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির স্মরণসভায় গিয়ে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশমতোই সোমবার খড়দা থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের করা হয়। নতুন এই এফআইআরে নাম রয়েছে পানিহাটির তিন প্রভাবশালী নেতার:
নির্মল ঘোষ (পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক)
সোমনাথ দে (পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান)
সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় (প্রাক্তন কাউন্সিলর)
এই তিন জনের বিরুদ্ধেই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বেআইনিভাবে বাধাদান এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কী অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
স্মরণসভার মঞ্চ থেকে সরাসরি ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আশ্চর্য হয়ে যাবেন, মৃতদেহ সিরিয়াল ৩-এ ছিল, ১ করেছে। ক্রিমেশন কস্ট পরিবারের লোক দেয়নি। সই করতে হয় বাড়ির লোককে। কিন্তু তাঁদের কোনো সই ছিল না। এখানে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখার্জি—এই ৩ জন এই কাণ্ড করেছে।” পাশাপাশি ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রথম থেকেই এই তিন নেতার বিরুদ্ধে দেহ সৎকার নিয়ে জোর জবরদস্তি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন এই এফআইআর দায়ের হওয়ার পর আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।