তৃণমূলে ফের পালাবদল! ঋতব্রত শিবির ছেড়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে তিন বিধায়ক, শুরু রাজনৈতিক জল্পনা

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এতদিন দলের একাংশের বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ভিড়ে থাকা একাধিক বিধায়ক সোমবার হঠাৎই প্রকাশ্যে দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করলেন। তাঁদের এই ভোলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি তবে ফাটল ধরতে শুরু করেছে ঋতব্রত শিবিরে?

বিধানসভায় দৃশ্যপট বদল ও বিধায়কদের অবস্থান
তৃণমূলের অন্দরে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়েছিলেন জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী বেশ কয়েকজন বিধায়ক। কিন্তু সোমবার বিধানসভার ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

এদিন বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস, জোড়াফুল প্রতীক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। তাঁর সাফ কথা, মমতার ছবি ও নাম না থাকলে তিনি নির্বাচনে ১০টি ভোটও পেতেন না। তাঁর একমাত্র নেত্রী যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাও স্বীকার করে নেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের খবর, ইতিমধ্যেই তিনি মমতার কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়ে এসেছেন। একই পথে হেঁটে বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার এবং মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লাও মমতার নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।

হালিশহরে হামলার প্রতিবাদ ও কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক দাবি
সম্প্রতি হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে জোরালো কর্মসূচি পালন করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। হাজরা মোড়ে পুলিশ ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি এবং বেশ কিছু আটকের ঘটনাও ঘটে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রতিবাদের মঞ্চেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং পুলক রায়দের মতো হেভিওয়েট নেতাদের সঙ্গে দেখা যায় দলবদলের জল্পনায় থাকা তৌসিফুর রহমান, বিভাস সর্দার ও আবদুল খালেক মোল্লাকে। এই ঘটনার পর তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, শুধুমাত্র এই তিনজন বিধায়কই নন, বরং আরও ২৩-২৪ জন বিধায়ক ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দলে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

কী বলছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?
অন্যদিকে, এই দলবদল ও ভাঙনের গুঞ্জনকে হালকা করে দেখাতে চাওয়া হয়েছে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা দাবি করেছেন যে, বিভাস সর্দার বা তৌসিফুর রহমানের দায়িত্ব তিনি নেবেন না, তবে আবদুল খালেক মোল্লা এখনও তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, তাঁদের জোটে এখনও ৬৫ জন বিধায়ক অটুট রয়েছেন। তা সত্ত্বেও, বিদ্রোহীদের এভাবে একে একে সুর বদল করা তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *