মাঝআকাশে হুড়মুড়িয়ে ৩০০ ফুট নিচে নামল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান! ১৭ জন আহত, নেপথ্যে কোন ভয়ঙ্কর যান্ত্রিক ত্রুটি?

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝআকাশেই ঘটে গেল মারাত্মক এক দুর্ঘটনা। হঠাৎ করেই পায়ের তলা থেকে মাটি খসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন বিমানটি একধাক্কায় প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে যাত্রী ও কেবিন ক্রু মিলিয়ে মোট ১৭ জন আহত হয়েছেন। বিমানটিতে অটোপাইলট বিকল হওয়া থেকে শুরু করে বিরল ‘ট্রিপল হাইড্রোলিক ফেলিউর’-এর মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল মাঝআকাশে?
গত ৪ অগস্ট ‘এয়ারবাস এ৩২০’ (VT-EXO) মডেলের AI2379 বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। মাঝআকাশে হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয় এবং অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সহ-পাইলট ম্যানুয়ালি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ককপিটে ‘ফ্লাইট-কন্ট্রোল স্টল মেসেজ’ ভেসে ওঠে এবং বিমানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর সুইচ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিমানের নেভিগেশন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি হাইড্রোলিক সিস্টেম বিকল হয়ে যাওয়ায় বিমানটি চরম বিপদের মুখে পড়েছিল। তবে পাইলটদের চরম সাহসিকতা ও দক্ষতার বলে শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।

যাত্রীদের আতঙ্ক ও আহতদের বিবরণ
বিমানের এক যাত্রী জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বিমানটি নিচে নামতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই চিৎকার শুরু করেন। আকস্মিক এই ঝাঁকুনির চোটে একটি শিশু ছিটকে পেছনের দিকে গিয়ে পড়ে এবং অনেকেরই হাত-পা, হাড় ও পাজড়ে গুরুতর চোট লাগে। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ টারবুল্যান্স প্রায় পাঁচ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল এবং এর জেরে চারজন কেবিন ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

আন্তর্জাতিক তদন্ত ও পাইলটদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘গুরুতর দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। যেহেতু বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘এয়ারবাস’-এর সদর দফতর ফ্রান্সে অবস্থিত, তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা (BEA) এবং এয়ারবাসের একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল ভারতীয় তদন্তকারীদের সাহায্য করতে ভারতে আসছে। ফ্লাইটের ডাটা ও ককপিট ভয়েস রেকর্ড খতিয়ে দেখে বিপর্যয়ের আসল কারণ খোঁজা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর চালকদের বাধ্যতামূলক ড্রাগ পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্টে বিমান পরিচালনাকারী প্রধান পাইলটের (Pilot-in-Command) নমুনায় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তা চূড়ান্ত ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন দুই পাইলটকেই উড্ডয়ন ডিউটি থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *