দুর্গাপুজোর অনুদান পাবে কোন কোন ক্লাব? নবান্নে হয়ে গেল বিশেষ বৈঠক

রাজ্যের দুর্গাপুজোর অনুদান ব্যবস্থায় আসতে চলেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। বিগত সরকারের আমলে সমস্ত পুলিশ অনুমোদিত পুজো কমিটিকে একই হারে আর্থিক অনুদান দেওয়া হলেও, নতুন সরকারের জমানায় সেই নিয়মে বড় কাটছাঁট হতে চলেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এবার থেকে সব ক্লাবকে এক ছাতার তলায় এনে অনুদান দেওয়ার বদলে, শুধুমাত্র ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের ছোট পুজো কমিটিগুলিকেই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই নীতি পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নতুন সরকার।
কেন এই বদল? অনুদান নীতিতে বড় পরিবর্তন
২০১৮ সালে প্রথমবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। এরপর প্রতি বছরই ধাপে ধাপে সেই অঙ্ক বাড়ানো হয় এবং গত বছর প্রতিটি পুজো কমিটি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পায়। যার জেরে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই সর্বজনীন অনুদানের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, আগের মতো ঢালাওভাবে সব পুজোকে অনুদান দেওয়া হবে না। সেই কথামতোই এবার প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করে সাহায্য করার নীতি কার্যকর হতে চলেছে। সরকারের সাফ বার্তা— সবার জন্য নয়, এবার থেকে আর্থিক দিক থেকে দুর্বল ও প্রয়োজনীয় কমিটিগুলিই পাবে অগ্রাধিকার।
‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সঙ্গে নবান্নের বৈঠক
পুজোর অনুদান ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে কলকাতার বিশিষ্ট পুজো কমিটিগুলির সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর প্রতিনিধিরা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও।
বৈঠকের পর ফোরামের তরফে অঞ্জন উকিল হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানান, বড় রাস্তা ও গলির পুজো, বিদ্যুতের ছাড়, হোর্ডিং-ব্যানারের কর্পোরেশন ট্যাক্স ছাড় এবং অনুদান নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চলতি মাসেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছোট ও বড় পুজোগুলির প্রতিক্রিয়া
নতুন সরকারের এই সম্ভাব্য নীতি বদল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে পুজো মহলে:
-
বড় পুজোগুলির স্বাগত বার্তা: উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা পুজো টালা প্রত্যয়-এর কর্তা দেবাশিস সোম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় পুজো কমিটিগুলিকে বাদ দিয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল ছোট পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া হলে তা বেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। তাঁরা নিজেদের ক্লাবের উদ্যোগে দেবী আরাধনা করতে প্রস্তুত।
-
আশায় ছোট পুজোগুলি: দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সাহাপুর সাংগঠনিক ক্লাব-এর সদস্য মৈনাক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁদের বাজেট ৫ লক্ষ টাকারও কম। সরকারি অনুদান পেলে তাদের পুজো আরও ভালো হবে, তাই তাঁরা এখন মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
সব মিলিয়ে, পুজো আর মাত্র দু’মাস বাকি থাকলেও অনুদান নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা সম্পূর্ণ স্পষ্ট না হওয়ায় বহু কমিটিই এখনও তাদের বাজেট ও থিম চূড়ান্ত করতে ধন্দ্বে রয়েছে। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত ঘোষণায় ছোট ক্লাবগুলির ভাগ্য কীভাবে নির্ধারিত হয়।