সংসদে বিরাট মোড়! ছাত্র আন্দোলনে লাঠিচার্জের জবারে অবশেষে কি রাজি হলেন অমিত শাহ?

ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাগাতার উত্তাল হয়ে রয়েছে সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন। গত বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধীদের একটানা প্রতিবাদের জেরে বারবার বিঘ্নিত হয়েছে সংসদের উভয় কক্ষের কাজকর্ম। বিরোধী সাংসদদের প্রধান দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই বিষয়ে সদনে এসে জবাব দিতে হবে। আর এর মাঝেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—অবশেষে ছাত্র আন্দোলনে লাঠিচার্জের বিষয়ে মুখ খুলতে ও লোকসভায় জবাব দিতে রাজি হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মনে করা হচ্ছে, লোকসভার স্পিকার শীঘ্রই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।

বিরোধী দলকে কিরেন রিজিজুর কড়া বার্তা
সংসদের অধিবেশন বারবার ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার বিরোধী সাংসদদের নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে, ছাত্র আন্দোলন এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বিরোধী দলগুলিকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজিজু বলেন, “আমি বিরোধী দলকে অনুরোধ করছি, যেহেতু সরকার ছাত্র আন্দোলন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় রাজি, তাই আলোচনার সময় কোনো রকম হট্টগোল বা গোলমাল করা চলবে না। দয়া করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শুনুন।” পাশাপাশি তিনি এও অভিযোগ করেন যে, সরকার আলোচনা চায়লেও কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নিজেদের মধ্যেও এবিষয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।

মল্লিকার্জুন খাড়গের তীব্র আক্রমণ
অন্যদিকে, সোমবার সকালেই কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় আমাদের একমাত্র এবং প্রধান দাবি হলো, অমিত শাহকে সংসদে এসে তাঁর মতামত পেশ করতে হবে। দেশের ছাত্র সমাজের ওপর হওয়া অবিচারের বিষয়ে তাঁকে সদনে এসে বিবৃতি দেওয়ার জন্য আমরা ১৭ দিন ধরে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন করে খাড়গে আরও বলেন, “আপনারা কেন বারবার সংসদকে উপেক্ষা করছেন? এর স্পষ্ট অর্থ হলো, আপনারা সেই সংসদকেই অপমান করছেন যাকে দেশের জনগণ নির্বাচিত করে পাঠিয়েছে। আমরা বারবার চেয়েছি অমিত শাহ এসে তাঁর বক্তব্য রাখুন। কিন্তু তাঁদের ইচ্ছে নেই যে সংসদ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হোক।” রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছে এবং তাদের কাছে সাধারণ মানুষের মূল প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।

মাত্র চার কার্যদিবস বাকি, ঝুলে রয়েছে একাধিক বিল
বর্ষাকালীন অধিবেশনের আর মাত্র চারদিন কার্যদিবস বাকি রয়েছে। কিন্তু চলমান এই সংসদীয় অচলাবস্থার জেরে নারী সংরক্ষণ বিল, সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) এবং বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA)-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মেগা বিলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। সোমবার লোকসভার প্রকাশিত কার্যসূচির (List of Business) মধ্যেও এই বিলগুলির একটিরও স্থান হয়নি।

অচলাবস্থা ভাঙতে তৎপর কেন্দ্র
চলমান এই রাজনৈতিক ও সংসদীয় অচলাবস্থা কাটানোর জন্য পর্দার আড়ালে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের মন জয় করতে এবং অচলাবস্থা ভাঙতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি বৈঠক করেছেন এবং ফোনেও কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে নারী সংরক্ষণ ও সীমানা নির্ধারণ বিলের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য বিরোধী শিবির ও তাদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা চালিয়েছিল সরকার, তবে তাতে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য মেলেনি। এখন দেখার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির ঘোষণার পর বিরোধীরা সুর নরম করে কি না এবং অধিবেশনের শেষ কটা দিন সংসদ স্বাভাবিকভাবে চলে কি না!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *