কাওয়ার যাত্রায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী! গলায় ডমরু, কাঁধে কাওয়ার নিয়ে ভক্তদের মাঝে মোহন যাদব— ভাইরাল ভিডিও

‘বোল কানওয়াড়িয়া, বোল বাম…’ ধ্বনিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে চারপাশ। ভক্তদের সত্তার প্রতিটি তন্তু যেন শিহরিত হয়ে উঠছে ঢাক ও করতালির তালে। অবিরাম ঢাকের বাদ্যি আর ভক্তির আমেজে সম্পূর্ণ ভক্তিময় এক পরিবেশের সাক্ষী রইল মধ্যপ্রদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী জবলপুর। ১০ আগস্ট অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘সংস্কার কানওয়াড় যাত্রা’। আর এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিতে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব পা রাখলেন রাজপথে। শুধু অংশগ্রহণ করাই নয়, কাওয়ারীদের ওপর ফুল বৃষ্টি করার পাশাপাশি নিজেই কাঁধে কাওয়ার তুলে নিলেন, ডমরু বাজালেন এবং দাদা গুরুর সঙ্গে হেঁটে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও সংবর্ধনা
এদিনের এই সুবিশাল শোভাযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সাধু-সন্ন্যাসীরা। কাওয়ার যাত্রার এই অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী ড. যাদব সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, আজ শ্রাবণ মাসের অত্যন্ত পবিত্র সোমবার। সকলেই মা নর্মদার কৃপা ও আশীর্বাদ ধন্য হচ্ছেন। কাওয়ারিয়ারা ভগবান শিবকে জল অর্পণ করার জন্য পবিত্র নর্মদার জল কাঁধে নিয়ে যাত্রা করছেন। ভক্তদের এই ঢল যেন আছড়ে পড়া সাগরের ঢেউয়ের মতো। যতদূর চোখ যাচ্ছে, কেবল কাওয়ারিয়াদের গৈরিক বসন আর ভক্তির জোয়ার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

ধর্মীয় পর্যটন ও সনাতন সংস্কৃতি প্রসারে জোর সরকারের
এদিনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ড. মোহন যাদব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তাঁর সরকার সনাতন সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে এবং ধর্মীয় পর্যটনের প্রসারে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি জীবনে বহু কাওয়ার যাত্রা দেখেছি, কিন্তু জবলপুরের এই যাত্রা আমার দেখা অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক কাওয়ার যাত্রা। এই পবিত্র শ্রাবণ মাস দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতি ভক্তি নিবেদনের শ্রেষ্ঠ সময়। দাদা গুরুর নেতৃত্বে যেভাবে হাজার হাজার ভক্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

সরকারের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রীদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং তীর্থস্থানগুলির আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলেও জানান তিনি।

খাদ্য ও পানীয়ের ঊর্ধ্বে আধ্যাত্মিক সাধনা
ভাষণের শেষে জীবনের এক গভীর দর্শন তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের এই যাত্রায় অংশগ্রহণকারী সাধু ও গুরুরা আমাদের এই শিক্ষাই দিচ্ছেন যে, শুধুমাত্র লৌকিক খাদ্য ও পানীয়ে আসক্ত না হয়েও পবিত্র ও সংযমের পথ অনুসরণ করে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব। দাদা গুরু যেভাবে শুধুমাত্র নর্মদার জলের ওপর নির্ভর করে এক অনন্য জীবনযাত্রার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। নর্মদার প্রতিটি কণার মধ্যে ভগবান শিব বিরাজমান। এই মহাসম্মেলন ও সফল যাত্রার জন্য জবলপুরবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *