২৩ বছর আগের লকার, ২৩ নম্বর আর ৫০ লক্ষ টাকার সোনা গায়েব! এসবিআই-এর অন্দরে এ কী কাণ্ড?

ব্যাঙ্কের লকার মানেই গ্রাহকদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। কিন্তু সেই লকারই যদি এক দিনে ফাঁকা হয়ে যায়, তবে গ্রাহকের মাথায় হাত পড়াটাই স্বাভাবিক। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের স্বরূপ নগরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) একটি শাখায় এমনই এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক মহিলার ব্যাঙ্ক লকার থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সোনা ও হিরের গয়না উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে লকারটি থেকে গয়না গায়েব হয়েছে, সেটির নম্বর ছিল ‘২৩’, মহিলাটি সেটি নিয়েছিলেন ‘২৩’ বছর আগে এবং ঘটনাটি সামনেও এল ঠিক ‘২৩’ বছর পর! এই অদ্ভুত কাকতালীয় সমীকরণ নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে কৌশলপুরীর বাসিন্দা রশ্মি অরোরা জানিয়েছেন যে, তিনি ২০০৩ সালে স্বরূপ নগরে অবস্থিত তৎকালীন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ত্রিবাঙ্কুরের শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেই সময় তাঁকে ‘২৩’ নম্বর লকারটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। রশ্মির দাবি, তিনি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁর সমস্ত সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান গয়না ওই লকারেই সুরক্ষিত রেখেছিলেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা।

পরবর্তীকালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি মেয়েকে নিয়ে লখনউ চলে যান। যার জেরে দীর্ঘকাল তিনি সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও লকারের খোঁজখবর রাখতে পারেননি।

ব্যাঙ্কের মার্জার এবং লকারের খোঁজ
রশ্মি জানান যে, প্রায় চার মাস আগে তিনি তাঁর মেয়েকে নিয়ে ওই ব্যাংকে যান। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট ও লকার থাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ত্রিবাঙ্কুরের শাখাটি ইতিমধ্যেই স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) সঙ্গে একীভূত (Merge) হয়ে গেছে। তিনি আরও দেখতে পান যে, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মমতো লকারের রক্ষণাবেক্ষণের ফি ঠিকই কেটে নেওয়া হচ্ছে।

এরপর তিনি লকারটি দেখতে চান। গত ২১শে জুলাই তিনি ব্যাংকে গিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেন। ব্যাংক তাঁকে লকার নম্বরটি দিলেও সেদিন তাঁর কাছে চাবি না থাকায় তিনি লকারটি খুলে ভেতরের অবস্থা দেখতে পারেননি।

২৭ জুলাই লকার খুলতেই সামনে এল ফাঁকা বাক্স
অবশেষে গত ২৭শে জুলাই লকার খোলার চাবি নিয়ে সোজাসুজি ব্যাংকে পৌঁছন রশ্মি অরোরা। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লকার রুমের দরজা খোলার পর তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। তিনি দেখেন, লকারের ভেতরে রাখা তাঁর সাধের ৫০ লক্ষ টাকার কোনো গয়নাই সেখানে নেই! বাক্সটি সম্পূর্ণ ফাঁকা।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই তিনি ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মচারীদের কাছে এর সন্তোষজনক উত্তর চান। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরフ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। এরপর বাধ্য হয়ে তিনি সোজা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশের তদন্ত শুরু
মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কানপুরের স্বরূপ নগর থানা ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। লকার থেকে এত দামি গয়না কখন, কীভাবে এবং কার বা কাদের সহযোগিতায় উধাও হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিগত ২৩ বছরের সমস্ত নথিপত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এই রহস্যময় চুরির নেপথ্যে ব্যাঙ্কের কোনো অসাধু কর্মচারীর হাত রয়েছে কি না, তা জানতেও জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *