ট্রাম্পের বড় ব্যাকফুট! যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢেলে হঠাৎ পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার বিস্ফোরক পরিকল্পনা কেন?

দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। দুই দেশের মধ্যে এখনও লাগাতার হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে যে কোনো মূল্যে এবার যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে চাইছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বহুলচর্চিত পরমাণু চুক্তি থেকেও নাকি আপাতত সরে আসতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মাথা ব্যথার কারণ কী?
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত না করেই আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসার কথা ঘনিষ্ঠ মহলে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার শর্তেই এই পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের কঠিন শর্ত এবং ওয়াশিংটনের সীমাবদ্ধতা
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য আমেরিকার সামনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
অবিলম্বে মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ড থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া।
বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানের জমে থাকা কোটি কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে হোয়াইট হাউসের সামনে কূটনৈতিক বিকল্পের পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি, কোনো রকম দ্রুত সমঝোতায় না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এক সংঘাতের জন্য তেহরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই জোরালো ইঙ্গিত মিলছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট ও টোল বিতর্ক
উল্লেখ্য, সংঘাতের সূচনার পরেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ জলপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আমেরিকার কোনো যুদ্ধজাহাজ বা তাদের সহযোগী দেশের কোনো জলযান এই রুট দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ বা টোল আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছে ইরান। তবে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইরানের এই ধরনের সমস্ত বিধিনিষেধ এবং জোরপূর্বক টোল আদায়ের প্রচেষ্টা শুরু থেকেই শক্তহাতে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে ওয়াশিংটন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।