জরুরি অবস্থার বন্দিদের জন্য বিরাট উপহার! প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পেনশন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে যাঁরা জেল খেটেছিলেন, সেই সমস্ত বন্দিদের অবদানের কথা মাথায় রেখে এক ঐতিহাসিক ও নতুন পেনশন প্রকল্পের ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জরুরি অবস্থার সময়কার সেই সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং তাঁদের স্বীকৃতি দিতে রাজ্য সরকার প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর পাশাপাশি, এই বিশেষ সুবিধাভোগীদের জন্য সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত এবং চিকিৎসা সহায়তার মতো সুযোগ-সুবিধাও প্রদান করা হবে।

প্রকল্পের মূল ঘোষণা ও সুবিধাগুলি:
সম্মাননা: সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় এই সমস্ত সংগ্রামীদের ‘পশ্চিমবঙ্গ গণতন্ত্র সেনানী সম্মান’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

মাসিক পেনশন: রাজ্য সরকার চিহ্নিত মোট ৩২৫ জন ব্যক্তি, যাঁরা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার প্রতিবাদে বন্দি হয়েছিলেন, তাঁরা প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে পেনশন পাবেন।

বিনামূল্যে যাতায়াত: আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি সুবিধাভোগীরা রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করার সুযোগ পাবেন।

চিকিৎসা সহায়তা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পারিবারিক সুরক্ষা: এই প্রকল্পের একটি বড় দিক হলো, কোনো সুবিধাভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর জীবনসঙ্গী অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী এই সুবিধার আওতায় pension ও অন্যান্য সুবিধা পেতেই থাকবেন। ফলে এই প্রকল্প শুধু বর্তমান সুবিধাভোগীদের আর্থিক সুরক্ষাই দিচ্ছে না, বরং তাঁদের পরিবারের জন্যও নিরাপত্তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করছে।

জরুরি অবস্থার পটভূমি ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। সেই কালো দিনগুলিতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদে বহু মানুষকে জোর করে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ মানুষকে জেলে পোরা হয়েছিল, যার মধ্যে একাই পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫ হাজার মানুষ ছিলেন।

গণতান্ত্রিক অধিকার, সংসদীয় গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার রক্ষায় সেই সময় বন্দি হওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তাঁদের সেই ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই ‘গণতন্ত্র সেনানী’ সম্মান ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন ঘোষণা করার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সরকার ক্ষমতায় আসার ৯০ দিনের মধ্যেই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। এছাড়া জরুরি অবস্থার সময়কার রাজনৈতিক বন্দিদের সংগঠন ‘লোকতন্ত্র সেনানি সংঘ’-এর সদস্যদের ভবিষ্যতের বিভিন্ন গঠনমূলক পরামর্শও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *