সরকারি শিক্ষকদের লটারি! অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৬৫ করার প্রস্তাব, সঙ্গে জোড়া সুখবর?

দেশের সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আসতে চলেছে এক বিরাট সুখবর। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার শিক্ষকদের অবসরের বয়স বর্তমানের ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার একটি নতুন প্রস্তাব জমা পড়েছে সরকারের কাছে। শুধু অবসরের বয়স বৃদ্ধিই নয়, এর পাশাপাশি ছুটির পরিমাণ বাড়ানো এবং একগুচ্ছ নতুন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ারও দাবি উঠেছে। এই নিয়ম লাগু হলে যে দেশের লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা উপকৃত হবেন, তা বলাই বাহুল্য।
সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ শিক্ষকদের
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন-এর অধীনস্থ কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেছে। এই প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে ছুটির নিয়ম পরিবর্তন, পদোন্নতির সুযোগ বাড়ানো, অবসর-পরবর্তী সুবিধা, ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা এবং পেনশন সংক্রান্ত নিয়মের আমূল বদল।
শিক্ষক সংগঠনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হলো:
অবসরের বয়স বৃদ্ধি: শিক্ষক সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হোক।
পুরোনো পেনশন স্কিম (OPS): ১ জানুয়ারি, ২০০৪ বা তার পরে চাকরিতে যোগদানকারী শিক্ষকদের অনেকেই বর্তমানে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) বা সম্প্রতি ঘোষিত ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এর আওতাভুক্ত। তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পুরোনো পেনশন স্কিম (OPS) পুনরায় চালু করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
একক বেতন কাঠামো: দেশজুড়ে কর্মরত সমস্ত শিক্ষকের বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা একই হওয়া উচিত। তাঁরা দিল্লি, বিহার বা আন্দামান ও নিকোবরের মতো যেখানেই কর্মরত থাকুন না কেন, জীবনযাত্রার খরচ বিচার করে অভিন্ন বেতন কাঠামো ও ভাতা দেওয়ার দাবি উঠেছে।
পদোন্নতির কোটা বৃদ্ধি: বিভাগীয় শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ শতাংশ পদ পরীক্ষা কোটার মাধ্যমে পূরণ এবং ‘বিষয় প্রধান’ (Subject Head) নামে একটি নতুন পদ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পদের জন্য গ্রেড পে ৫,৪০০ টাকা এবং উপাধ্যক্ষের গ্রেড পে ৬,৬০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সুবিধা: সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষককে কর্মরত অবস্থাতেই ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো পরিবারে যদি শুধু পুরুষ সদস্য কর্মরত থাকেন, তবে তাঁকেও চাইল্ড কেয়ার লিভ (CCL) বা শিশু পরিচর্যা ছুটির সুবিধা দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে পেশ করা এই একগুচ্ছ প্রস্তাব ও সুপারিশ নিয়ে এখন প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার এই দাবিগুলি কতটা মেনে নেয় এবং শিক্ষকদের জন্য কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের শিক্ষক সমাজ।