নর্মদা নদীর জলে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম! গোবিন্দার জীবনের মর্মান্তিক স্মৃতি জানলে শিউরে উঠবেন

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দা বর্তমানে পর্দায় কামব্যাক করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর আসন্ন ছবি ‘রূপা’-তে নবাগতা অভিনেত্রী রানী স্বর্ণকারের সঙ্গে তাঁকে দেখা যাবে। এর মাঝেই সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনের এক গভীর ও অন্ধকার অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেতা, যা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন অনুরাগীরা।

মায়ের প্রয়াণ ও মানসিক বিপর্যয়

১৯৯৬ সালে গোবিন্দার মা নির্মলা দেবীর প্রয়াণ ঘটে। মাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন অভিনেতা। সেই মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে এমন এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল যে তিনি জীবনের ওপর থেকে সমস্ত ভরসা হারিয়ে ফেলেছিলেন। পডকাস্টে সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে গোবিন্দা জানান, মায়ের প্রয়াণের পর শোক এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার উপক্রম করেছিলেন।

নর্মদা নদীর জলে আত্মহত্যার চেষ্টা

ঘটনার বিবরণ দিয়ে গোবিন্দা জানান, সেই সময় তিনি নর্মদা নদীর জলে নেমে পড়েছিলেন এবং ক্রমশ গভীর জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, “আরেকটু এগোলে হয়তো মাকে আবার কাছে পাব, মায়ের সঙ্গে দেখা হবে!” তবে ঠিক সেই মুহূর্তে এক সাধু বা সন্ন্যাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর জীবন রক্ষা করেন। গোবিন্দা জানান, ঈশ্বর তাঁকে সেই চরম বিপদের হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। বিশেষ করে নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়তেই তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল যে জীবন এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে না।

আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, মানুষ এটিকে যেভাবেই দেখুক না কেন, জীবনের আসল অর্থ হলো বেঁচে থাকা এবং লড়াই করা। জীবন কখনোই শেষ হয় না, এটি কেবল বিভিন্ন রূপ ও আকার ধারণ করে। নিজের সৌভাগ্যের জোরেই তিনি সেই অন্ধকার পর্যায় কাটিয়ে আজ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে জানান ‘হিরো নম্বর ওয়ান’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *