পিওকে-তে চরম অশান্তির জেরে নতিস্বীকার! আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার ঘোষণা পাক সরকারের

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার জেরে অবশেষে সুর নরম করল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (PML-N)। এতদিন যাদের ‘সন্ত্রাসী’ বা দেশবিরোধী বলে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছিল শাসকদল, আচমকাই তাদের অবস্থান পালটে গেল। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ দাবি করেছেন যে, পিওকে-র এই বিক্ষোভকারীদের ৯৯ শতাংশই আসলে ‘দেশপ্রেমিক’! শুধু তাই নয়, বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-এর সঙ্গে খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসার কথাও জানিয়েছে পিএমএল-এন।
অবস্থানের এই আমূল বদল কেন?
গত দু মাসেরও বেশি সময় ধরে পিওকে-তে ছাত্র, ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী, আইনজীবী এবং সমাজকর্মীদের নিয়ে গড়ে ওঠা জেএএসি-র নেতৃত্বে তুমুল আন্দোলন চলছে। মূলত পিওকে-র ১২টি বিতর্কিত শরণার্থী আসন বাতিল করার দাবি সহ একাধিক ইস্যুতে এই বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে জুন মাসে আঞ্চলিক সরকার জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এমনকি পিএমএল-এন নেতারা অভিযোগ করেছিলেন যে, এই বিক্ষোভকারীদের আড়ালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্যরা লুকিয়ে রয়েছে। কিন্তু একটানা আন্দোলন ও জনগণের চাপের মুখে অবশেষে সরকারের টনক নড়েছে এবং তাদের সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছে।
পিএমএল-এন এবং নির্বাচনের সমীকরণ
পোকে বিধানসভার ৪৫টি আসনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন হয়েছে। পিএমএল-এন ২৫টি আসন জিতে ইতিমধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মাঝেই শনিবার এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রানা সানাউল্লাহ বলেন, পিএমএল-এন সরকার গঠন করলেই জেএএসি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে সমস্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেবে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও মানবাধিকারের প্রশ্ন
এদিকে, এই দীর্ঘ আন্দোলনে ব্যাপক রক্তপাত ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। জেএএসি-র দাবি, ২৭ জুলাই নির্বাচন শুরুর পর থেকে শিশু ও নারী সহ ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও পাকিস্তান সরকার এই পরিসংখ্যানকে অস্বীকার করেছে, তবুও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন এবং খোদ রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN) পিওকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে, জনরোষের মুখে পড়ে শাহবাজ সরকারের এই নতিস্বীকার আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।