দেশভাগের দগদগে ক্ষত ফের তাজা করতে উদ্যোগী রাজ্য! মোমবাতি মিছিল থেকে প্রদর্শনী—কী থাকছে সূচিতে?

দেশভাগের ক্ষত আজও দগদগে। ভিটেমাটি হারানোর যন্ত্রণা, রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা আর ছিন্নমূল হয়ে নতুন ঠিকানায় বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ইতিহাস সেই ভয়বহতার সাক্ষ্য আজও বহন করছে। দেশভাগের অবর্ণনীয় যন্ত্রণা, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে যথাযথ সম্মান জানাতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। আগামী ১৩ এবং ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হতে চলেছে ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মরণ দিবস’

এই উপলক্ষে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলি সুষ্ঠুভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে রূপায়ণ করতে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

গত ২৩ জুলাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠির সূত্র ধরেই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডঃ সৌমিত্র মোহন প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারত ভাগের সময় অগণিত মানুষ যে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের আত্মত্যাগ, কষ্ট ও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে জেলা স্তরে উপযুক্ত কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে।

জেলায় জেলায় কী কী কর্মসূচি থাকছে?

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের নির্দেশিকায় মূলত তিনটি প্রধান কর্মসূচির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে:

  • ১. মোমবাতি মিছিল: আগামী ১৪ অগস্ট সন্ধ্যায় প্রতিটি জেলার সদর দফতরে একটি উপযুক্ত স্থানে মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করতে হবে। এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিক, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকেও এই মিছিলে সামিল করা হবে।

  • ২. বিশেষ প্রদর্শনী: ১৩ এবং ১৪ অগস্ট—এই দু’দিন ধরেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল স্থানগুলিতে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করবে জেলা প্রশাসন। দেশভাগের মর্মান্তিক ইতিহাস, তার সুদূরপ্রসারী মানবিক প্রভাব এবং উদ্বাস্তুদের শূন্য থেকে শুরু করার লড়াইয়ের নানা কাহিনি সেখানে তুলে ধরা হবে। সেই সময়ের বিভিন্ন ছবি ও প্রামাণ্য নথি প্রদর্শিত হবে। বর্তমান প্রজন্ম ও স্কুলপড়ুয়ারা যাতে এই প্রদর্শনী দেখতে আসে, তার জন্য বিশেষ উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

  • ৩. তথ্যচিত্র প্রদর্শন: বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই তথ্যচিত্র এবং আনুষঙ্গিক সমস্ত সামগ্রী কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফেই সরবরাহ করা হবে। জেলা প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে ওই তথ্যচিত্রগুলি দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

গোটা কর্মসূচিটি যাতে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত এবং যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্তরের বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে নিরন্তর সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *