প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে সোনাগাছিতে বিক্রি!, ১০০-য় ফোন করতেই উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিলেন বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই প্রেমিকই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাঁকে সোনাগাছিতে এনে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ! অন্ধকার জগতের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত এক নাবালিকাকে উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার ১০০ ডায়ালে একটি ফোন আসতেই তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সোনাগাছির একটি ঘর থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে বড়তলা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক বাবুল ওরফে সফিকুল মোল্লা (২০) এবং তার সঙ্গী শাহরুখ ওরফে সাহারুল লস্কর (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ ১০০ ডায়ালে একটি জরুরি ফোন আসে এবং চাইল্ড হেল্পলাইনে একটি ইমেল পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, এক নাবালিকাকে জোর করে সোনাগাছিতে নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই বড়ো তলার পুলিশ আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেন।

অভিযোগ পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে দুর্গানচরণ মিত্র স্ট্রিটের ১৯ নম্বর বাড়ির একটি নির্দিষ্ট ঘরে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। ফোন করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এর পর বড়তলা থানার মহিলা পুলিশ আধিকারিকরা নিরাপদে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন।

পুলিশের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

উদ্ধার হওয়ার পর মহিলা পুলিশ অফিসারদের কাছে নিজের আতঙ্কের অভিজ্ঞতা খুলে বলে ওই নাবালিকা। সে জানায়, তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বাবুল নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তার সঙ্গেই সে ঘর ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে আসে। কিন্তু অভিযোগ, সোনাগাছির শাহরুখ নামের এক ব্যক্তির কাছে তাকে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় সেই প্রেমিক বাবুল।

গ্রেপ্তার অভিযুক্তরা

নাবালিকার বয়ানের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে দুই অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। ধৃত শাহরুখের বাড়ি দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটেই এবং অপর অভিযুক্ত বাবুলের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের গারুলিয়ায়। পুলিশের জেরায় দু’জনেই অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে খবর।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক কঠোর ধারার পাশাপাশি পকসো আইন (POCSO Act) এবং ইম্মোরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই জঘন্য মানব পাচার চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *