সলমনের বাড়ির সামনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সুরক্ষায় থাকা পুলিশকর্মীর আকস্মিক মৃত্যু

বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সুরক্ষায় মোতায়েন এক পুলিশ কনস্টেবলের আকস্মিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ডিউটি চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ বছর ওই পুলিশ কর্মী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কনস্টেবলের নাম গণেশ রায়তে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বান্দ্রায় সলমনের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন গণেশ। সেই সময় আচমকাই তিনি তীব্র শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটবর্তী ভাবা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও তার সিন্ডিকেটের ধারাবাহিক প্রাণনাশের হুমকির মুখে বর্তমানে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y-plus) ক্যাটাগরির কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে দিন কাটছে সলমন খানের। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বান্দ্রায় অভিনেতার এই বাসভবনের বাইরে দুই বাইকসওয়ার দুষ্কৃতী আচমকা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ পায় পুলিশ। জেরায় স্পষ্ট হয়, সলমনকে লাগাতার আতঙ্কিত করতেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। এরপর থেকেই গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অভিনেতার প্রতিমুহূর্তের চলাফেরায় কড়া নজরদারি রাখা হয়।
কড়া নিরাপত্তার এই ঘেরাটোপ ও বিধিনিষেধ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছিলেন খোদ ‘ভাইজান’। তিনি বলেছিলেন, “ভগবান, আল্লাহ—সব তাঁর ওপর নির্ভর করছে। যাঁর যতদিনের আয়ু লেখা আছে, তিনি ততদিনই বাঁচবেন। কিন্তু সবসময় এত নিরাপত্তারক্ষী আর মানুষের ঘেরাটোপের মধ্যে চলাফেরা করাটা মাঝে মাঝে বেশ অস্বস্তিকর।” তবে নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকা পুলিশকর্মীর এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সলমন খান বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।