ডাবরের খাঁটি মধু ও ঘি বিক্রি বন্ধের নির্দেশ! এফএসএসএআই-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে বড় স্বস্তি পেল ডাবর!

দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআই (FSSAI)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ওই নির্দেশিকায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি জায়ান্ট ডাবর ইন্ডিয়াকে “১০০% পিওর”, “১০০% ন্যাচারাল” এবং “১০০% অর্গানিক” মতো বিভিন্ন জোরালো দাবি সম্বলিত তাদের একাধিক জনপ্রিয় ফুড প্রোডাক্টের বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি অমিত মহাজন এফএসএসএআই-এর গত ৩ আগস্টের এই বিতর্কিত নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডাবর ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি জরুরি আবেদনের শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র সরকার, এফএসএসএআই এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে নোটিশ জারি করেছেন। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মূল যুক্তি ছিল যে, বাজারে প্রচলিত এই ধরনের দাবিগুলি অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এগুলির বৈজ্ঞানিক সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
কোন কোন পণ্যের ওপর ছিল নিষেধাজ্ঞার খাড়া?
এফএসএসএআই-এর এই কঠোর নির্দেশিকাটির সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ডাবরের বহু সুপরিচিত পণ্যের ওপর। যার মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত ছিল:
-
ডাবর হানি ও ডাবর হানি স্কুইজি
-
ডাবর সুন্দরবন হানি ও ডাবর অর্গানিক হানি
-
ডাবর হিমালয়ান অ্যাপল সাইডার ভিনেগার
-
ডাবর ভার্জিন কোকোনাট অয়েল ও ডাবর কাউ ঘি
-
রিয়েল অ্যাক্টিভ ১০০% টেন্ডার কোকোনাট ওয়াটার
-
ডাবর হোমমেড কোকোনাট মিল্ক
ডাবরের আইনি লড়াই ও যুক্তি
ডাবর ইন্ডিয়া এই নির্দেশকে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে যে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পূর্ববর্তী কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি না করেই এবং কোম্পানিকে তাদের বক্তব্য বা সাফাই পেশ করার ন্যূনতম সুযোগ না দিয়েই সম্পূর্ণ একতরফাভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কোম্পানির তরফ থেকে সওয়াল করা হয় যে, ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড ক্লেমস) রেগুলেশনস, ২০১৮’ অনুযায়ী, এই ধরনের কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফুড বিজনেস অপারেটরের কাছ থেকে স্পষ্টীকরণ চাওয়া বাধ্যতামূলক। কোম্পানির আরও অভিযোগ ছিল যে, এই আকস্মিক নির্দেশের ফলে বাজারে সরবরাহ করা পণ্য জোরপূর্বক তুলে নেওয়া বা নতুন করে প্যাকেটজাত করতে হচ্ছে, যা আর্থিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাছাড়া, এফএসএসএআই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নির্দেশ ব্যাপকভাবে প্রচার করায় কোম্পানিকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
আইনি ভিত্তি ও আদালতের অবস্থান
আইনি ভিত্তি ও বৈধতার দিক থেকেও এই নির্দেশকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে ডাবর। তাদের আইনি পরামর্শদাতাদের যুক্তি যে, ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬’-এর ১৮ নম্বর ধারাটি কেবল কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে এবং কোনো নির্দিষ্ট ‘ডেজিকনেটেড অফিসার’কে পণ্যের অবাধ বিক্রি আকস্মিক বন্ধ করে দেওয়ার একতরফা আইনি ক্ষমতা দেয় না। ডাবরের মতে, এফএসএসএআই-এর এই নির্দেশটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কারণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এতে কোথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি যে প্রচলিত দাবিগুলি কীভাবে আইন লঙ্ঘন করছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এফএসএসএআই পণ্যের গুণগত মান খারাপ হওয়া বা পণ্যগুলি মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অনিরাপদ—এমন কোনো গুরুতর অভিযোগ আনেনি; এই সমগ্র বিতর্কটি মূলত পণ্যের লেবেলিং এবং বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিধানের সীমার মধ্যেই আটকে রয়েছে। হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশে সাময়িকভাবে স্বস্তি মিললেও আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বাজার মহলের।