পুলিশ বা সিআইডি সেজে হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ফোন? নতুন ফাঁদ থেকে বাঁচবেন কীভাবে?

টেক ও সাইবার সুরক্ষা ডেস্ক: বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে সাইবার অপরাধীরা। সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে এখন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমকে হাতিয়ার করছে তারা। সম্প্রতি বহু মানুষের কাছেই বাংলাদেশ পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, র‍্যাব কিংবা অন্য কোনো নামী গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বা ভিডিও কল এবং মেসেজ আসার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতারকদের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল পিকচারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরা কোনো ব্যক্তির ছবি বা সরকারি লোগো ব্যবহার করা থাকছে, যা দেখে প্রথম নজরে অনেকেই আসল ঘটনা বলে বিশ্বাস করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

কীভাবে চলছে এই প্রতারণার জাল?

প্রতারকরা সাধারণত সাধারণ মানুষের ভয় ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কথোপকথন শুরু করে। তারা অত্যন্ত গম্ভীর ও ভীতিপ্রদ সুরে দাবি করে যে—

  • সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে কোনো গুরুতর মামলা রুজু হয়েছে।

  • তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করে অন্য কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছে কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।

  • অবিলম্বে এই বিষয়ে মীমাংসা না করলে বা টাকা না দিলে বড় ধরনের গ্রেপ্তার কিংবা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই প্রতারকরা টাকা লেনদেনের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অঙ্কের দাবি করে। আবার কেউ কেউ চ্যাটবক্সে বা কলে কোনো অজানা লিংক পাঠিয়ে তাতে তৎক্ষণাৎ ক্লিক করতে নির্দেশ দেয়। সেই ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করলেই ইউজারের ফোনে ম্যালওয়্যার বা কোনো স্পাই অ্যাপ ইনস্টল হয়ে যেতে পারে, যার ফলে ফোনের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ও গোপন তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এর জেরে ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি (OTP), সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ডেটা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

কীভাবে বুঝবেন এটি ফেক বা প্রতারণা?

১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদ্ধতি: দেশের কোনো আসল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশ কখনো হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মামলা বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না। ২. নম্বর ও ভাষার অসঙ্গতি: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিচিত আন্তর্জাতিক নম্বর বা অস্বাভাবিক ভাষা ব্যবহার করা হয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়। ৩. প্রোফাইল ছবি ভুয়ো হতে পারে: হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে পুলিশের পোশাক বা সরকারি মনোগ্রাম থাকলেই সেটি আসল পরিচয় নয়। যে কেউ খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে এমন ছবি সংগ্রহ করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী?

  • আতঙ্কিত হবেন না: ভয় না পেয়ে সম্পূর্ণ শান্ত থাকুন এবং অপরিচিত কলারের কথা অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না।

  • টাকা পাঠাবেন না: কোনো অবস্থাতেই বিকাশ, নগদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো মাধ্যমে কাউকে এক কানাকড়িও দেবেন না।

  • লিংকে ক্লিক নয়: অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না বা অজানা কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করবেন না।

  • তথ্য শেয়ার করবেন না: ওটিপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস, এনআইডি নম্বর, পিন বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে ভুলেও শেয়ার করবেন না।

  • ব্লক ও রিপোর্ট: সন্দেহজনক নম্বরটি সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করুন এবং হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব ‘Report’ অপশন ব্যবহার করে তা রিপোর্ট করুন। ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে কল বা চ্যাটের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখুন।

যদি সত্যিই এ ধরনের কোনো ফোন আসে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় থানায় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করুন। সাইবার অপরাধীরা মূলত মানুষের ভয় ও তাড়াহুড়ার সুযোগ নেয়, তাই সামান্য সচেতনতা এবং কয়েক মিনিটের যাচাইকরণ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক সদস্য এবং প্রযুক্তিতে কম অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা একান্ত প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *