সুপ্রিম কোর্ট থেকেও স্বস্তি পেলেন না নারায়ণ সাই! ধর্ষণ মামলায় বড় ধাক্কা আশারামের ছেলের

ধর্ষণ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকেও কোনো স্বস্তি পেলেন না বিতর্কিত স্বঘোষিত বাবা আশারামের ছেলে নারায়ণ সাই (Narayan Sai)। ২০১৩ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত নারায়ণ সাইয়ের সাজা স্থগিত এবং জামিনের আর্জি শুনতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি খারিজ করে তা আবার গুজরাট হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই মামলার চূড়ান্ত আপিল নিষ্পতি করার জন্য গুজরাট হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে কী সওয়াল হয়েছিল?
বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় নারায়ণ সাইয়ের আইনজীবী এন হরিহরণ আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বলেন, “আমি আপিলটির দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন করলেও হাইকোর্ট তা গ্রহণ করছে না এবং ইতিমধ্যে ১২ বছর কেটে গেছে।” তাঁর দাবি ছিল, এই মামলায় আপাতদৃষ্টিতেও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি এবং তাঁদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে না।

যদিও আইনজীবীর এই যুক্তিতে সায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। উল্টে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আপনারা আপনাদের মামলা উপস্থাপন করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্তি দিন। আমরা হাইকোর্টকে দ্রুত তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিচ্ছি।” ### আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা:
বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে গুজরাট হাইকোর্টকে এই মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে। এর পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আবেদনকারী (নারায়ণ সাই) এবং রাজ্য সরকার উভয়কেই বিচার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আদালত এও উল্লেখ করেছে যে, তিন মাস পর প্রয়োজনে মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টের সামনে উঠতে পারে এবং তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন নারায়ণ সাই। সেই সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং জামিনের আর্জি জানিয়ে তিনি গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টে সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে আপাতত তাঁকে জেলেই থাকতে হচ্ছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টেই তাঁর আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *