রোজ ক’টা ডিম খাওয়া উচিত? হার্টের ভয় না রেখে প্রতিদিন ঠিক কতগুলো ডিম খাবেন? জানুন আসল সত্যি

বিশেষজ্ঞরা বরাবরই ডিমকে অন্যতম সেরা ও পুষ্টিকর সুপারফুড হিসেবে গণ্য করে এসেছেন। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষই হৃদরোগের ঝুঁকি না বাড়িয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। তবে ডিমের পুষ্টিগুণ বা ক্ষতিকর দিক নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বহু পুরানো ভীতি ও সংশয় জড়িয়ে রয়েছে, যার বেশিরভাগেরই আধুনিক বিজ্ঞানে কোনো ভিত্তি নেই।
ডিমের কোলেস্টেরল ও আধুনিক গবেষণা
একটি বড় সাইজের ডিমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। সংখ্যাটা শুনতে অনেকটাই মনে হতে পারে, কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে—ডিমের মতো খাবারের কোলেস্টেরলের চেয়ে মূলত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বাড়ায়। তাই শুধুমাত্র ডিমের জন্য হার্টের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকেই না।
প্রতিদিন ক’টা ডিম খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন কুসুম-সহ এক থেকে দুটি ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর।
যাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণে ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে না।
আসল বিপদের কারণ কী?
হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য দুশ্চিন্তার আসল কারণ কিন্তু ডিম নিজে নয়, বরং ডিমটি কীভাবে বা কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেটাই আসল বিষয়। যেমন—সাদা পাউরুটি বা টোস্ট, প্রসেসড মাংস, সসেজ, বেকন, ভাজা আলু কিংবা প্রচুর তেলে রান্না করা খাবারের সঙ্গে ডিম খেলে বিপদ বাড়তে পারে। তাই সকালের নাস্তায় তেলমশলা ছাড়া ডিম সেদ্ধ, সবজি দিয়ে কম তেলে অমলেট বা পোচ করে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
ডিমের জাদুকরী পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: ডিমের কুসুমে কোলিন (Choline) নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে, যা মস্তিষ্কের বিকাশ, লিভারের স্বাস্থ্য এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
ওমেগা-৩ ও ভিটামিন বি-১২: ডিমে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ কমায় এবং স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: একটি বড় ডিমে মাত্র ৭৪ ক্যালোরি থাকে, অথচ এতে ভরপুর থাকে উচ্চ মানের প্রোটিন। ফলে ডিম খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং বারবার অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সর্বোপরি, হার্টের সুস্বাস্থ্য কেবল একটি নির্দিষ্ট খাবারের উপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে শাকসবজি, ফল, ডাল ও বাদামের পাশাপাশি নির্দ্বিধায় রাখুন আপনার প্রিয় ডিমটি!