মোদীর প্রাতরাশ বৈঠকে হাজির তৃণমূল থেকে আসা সাংসদরা! চাঞ্চল্যকর বৈঠকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠক (Breakfast Meeting)। প্রায় ৪৫ জন নবনির্বাচিত এবং প্রথমবার জয়ী এনডিএ (NDA) লোকসভা সাংসদদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে অত্যন্ত আন্তরিক ও ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন উপস্থিত নেতারা। বিশেষ করে, অতীতে অন্য রাজনৈতিক দল বা বিরোধী শিবির থেকে আসা সাংসদদের এই বৈঠকে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ ভালোই শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বৈঠকে কী বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বা এনডিএ-কে একটি ‘পরিবার’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবাইকে একসঙ্গে মিলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন।
বৈঠকের পর এনসিপিআই (NCPI) নেতা জগদীশ বাসুনিয়া সংবাদমাধ্যম এএনআই-কে জানান, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশে দারুণ আলোচনা হয়েছে, খুব আন্তরিক একটা বৈঠক ছিল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, আমরা সবাই এনডিএ পরিবারের অংশ। আসুন, এনডিএ যেভাবে কাজ করে, সেভাবেই আমরা জনকল্যাণে একসঙ্গে কাজ করি।”
উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন ও তারকা সাংসদদের প্রতিক্রিয়া
বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈঠকে উপস্থিত থাকা তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান যে এই বৈঠক তাঁকে ভীষণভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং তাঁর নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। রচনার কথায়, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আমি সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। সকলে মিলিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং সেই কাজে সকলকে একজোট হতে হবে।” * সাংসদ শতাব্দী রায় দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থে দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সহযোগিতামূলক মনোভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
কাদের নিয়ে হয়েছিল এই বৈঠক?
শুক্রবার সকাল ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত নবনির্বাচিত এবং প্রথমবার সংসদে আসা এনডিএ সাংসদরা যোগ দেন। বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, অতীতে টিএমসি, এনসিপিআই, ইউবিটি এবং শিবসেনার মতো দলগুলির সঙ্গে যুক্ত থেকে বর্তমানে এনডিএ-র শরিক বা ছাতার তলায় আসা সাংসদরাও এই বিশেষ প্রাতরাশ সভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বিজেপির ৩৭ জন নবনির্বাচিত রাজ্যসভা সাংসদদের সঙ্গেও একটি প্রাতরাশ বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন—তারা যেন “দিল্লির মায়াজালে” আটকে না পড়েন এবং নিজেদের কার্যকলাপ শুধুমাত্র লুটিয়েন্স দিল্লির চারধারে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যান।