সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তি মিললেও কমছে না চিন্তা! ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক

গতকালই শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলায় তাঁর গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। কিন্তু তারপরেও কেন ফের রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সুপ্রিমোর তাত্ত্বিক সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়? আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও, সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আসল কারণ
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগেই আগাম জামিন পেয়েছিলেন সুমিত। তবে শালবনি এলাকায় জমি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে আগাম জামিন না দেওয়ায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং সেখানে গ্রেফতারি থেকে সাময়িক স্বস্তি পান।
কিন্তু আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি এবং চাকরি দুর্নীতি মামলা ছাড়াও সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আরও ৪টি এফআইআর বা মামলা ঝুলে রয়েছে। আর সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট থেকে কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি পেলেও নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে রয়েছেন তিনি। পুলিশের সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই মূলত তিনি ফের আদালতের শরণাপন্ন হয়ে অতিরিক্ত রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়েছিলেন।
খারিজ দ্রুত শুনানির আর্জি
কলকাতা হাইকোর্টে দ্রুত শুনানির আর্জি জানালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির মতো কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই নির্দিষ্ট নিয়ম ও তালিকা মেনেই পরবর্তী সময়ে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া শর্ত
শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলায় সুমিত রায়ের গ্রেফতারিতে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিলেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছে:
তদন্তকারী অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলে সুমিতকে অবশ্যই হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সঙ্গে একজন আইনজীবী রাখতে পারবেন।
সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শুধুমাত্র তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা যাবে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।
শীর্ষ আদালত থেকে আংশিক স্বস্তি মিললেও অন্যান্য মামলার গেরোয় সুমিত রায়ের আইনি লড়াই যে এখনই শেষ হচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য।