সকালের প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হলেই কি কিডনির রোগ? আতঙ্ক দূর করতে যা বললেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, জানলে চমকে উঠবেন

প্রস্রাবের রং হলুদ বা গাঢ় হতেই অনেকের বুক ধুকপুক করতে শুরু করে। মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি কিডনিতে বড় কোনো রোগ বাসা বাঁধল? ওপিডি (OPD)-তে আসা উদ্বিগ্ন রোগীদের এই ভীতি দূর করতে সম্প্রতি নিজেদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন চিকিৎসক চাঙ্গানিডি। তাঁর সাফ কথা, প্রস্রাব হলুদ হওয়ার অর্থই যে কিডনির রোগ, তা কিন্তু একেবারেই নয়!
প্রস্রাব কেন হলুদ হয়?
চিকিৎসকের মতে, প্রায় ১০ বারের মধ্যে ৯ বারই এর মূল কারণ হল শরীরে জলের পরিমাণ বা হাইড্রেশন (Hydration) সংক্রান্ত বিষয়। খাবার কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমনটা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।
ইউরোক্রোম (urochrome): এটি এমন একটি রঞ্জক পদার্থ, যা আমাদের শরীরে পুরনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার সময় তৈরি হয়।
পর্যাপ্ত জল পান করলে প্রস্রাবের রং সাধারণত হালকা হলুদ বা খড়ের মতো (straw-coloured) হয়, যা একটি ভালো লক্ষণ।
রাতের বেলা ৬-৮ ঘণ্টা জল পান করা হয় না বলে সকালের প্রথম প্রস্রাব প্রায়শই একটু গাঢ় রঙের হয়। এতে অকারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
খাবার ও ওষুধের ভূমিকা
আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন বা কী ধরনের ওষুধ নিচ্ছেন, তার ওপরও প্রস্রাবের রং অনেকটাই নির্ভর করে। এটি সম্পূর্ণ সাময়িক বিষয়:
ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স: ভিটামিন বি২ বা রাইবোফ্লাভিন প্রস্রাবকে প্রায় নিয়ন-হলুদ রঙে পরিণত করতে পারে।
সবজি ও ফল: গাজর ও মিষ্টি কুমড়ো প্রস্রাবের রঙে কমলা আভা আনতে পারে। আবার বিটরুট বা ব্ল্যাকবেরি খেলে প্রস্রাব গোলাপি রঙের হতে পারে।
ওষুধ: কিছু নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক এবং ল্যাক্সেটিভের (কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ওষুধ) কারণেও এমনটা ঘটে। ওষুধ বা খাবার বন্ধ করলেই এক-দুদিনের মধ্যে রং স্বাভাবিক হয়ে যায়।
জলশূন্যতা ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
পর্যাপ্ত জল পান না করা, বেশিক্ষণ রোদে থাকা, আগের রাতে অ্যালকোহল সেবন অথবা অতিরিক্ত কফি ও এনার্জি ড্রিংক পানের কারণে প্রস্রাব ঘন বা ঘনীভূত হয়ে যায়। দিনে বাধ্যতামূলকভাবে ৮ গ্লাস জল খেতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই; এটি বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে সঙ্গে সঙ্গে জল পান করা উচিত।
প্রস্রাবের কোন রঙে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
পর্যাপ্ত তরল পানের পরেও যদি প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক না হয় এবং নিচের লক্ষণগুলি দেখা দেয়, তবে সতর্ক হোন:
লাল বা গোলাপি রং: রক্তপাত, কিডনিতে পাথর বা মূত্রনালির সমস্যার ইঙ্গিত।
বাদামী বা কোলা-রং: লিভারের রোগ, পেশির আঘাত বা কিডনির জটিলতা।
কমলা রং: তীব্র ডিহাইড্রেশন, নির্দিষ্ট ওষুধ কিংবা লিভার ও পিত্তনালির সমস্যা।
ঘোলাটে প্রস্রাব: মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI)-এর স্পষ্ট লক্ষণ।
দীর্ঘ সময় ধরে ফেনা: প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিনের উপস্থিতি বোঝায়, যা কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাব আটকে রাখার মারাত্মক ক্ষতিকর অভ্যাস
ট্রাফিক জ্যামে পড়ে কালেভদ্রে এমনটা হলে বড় সমস্যা না হলেও, ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখলে ইউটিআই (UTI) এবং মূত্রথলির বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
তাই শুধুমাত্র রঙের সামান্য পরিবর্তন দেখেই আতঙ্কিত না হয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখুন। পর্যাপ্ত জল খান, সুষম আহার করুন এবং লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে কালক্ষেপ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।