২৫ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন বিক্রি! নিট-ইউজি কাণ্ডে সিবিআই-এর চার্জশিটে নাম জড়াল খোদ NTA বিশেষজ্ঞদের, প্রকাশ্যে এল শিহরণ জাগানো তথ্য

বিতর্কিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। সংস্থার পেশ করা সাম্প্রতিক চার্জশিটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনা কোনও সাধারণ জালিয়াতি বা শেষ মুহূর্তের ত্রুটি ছিল না; বরং এটি ছিল একাধিক রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এক সুসংগঠিত গভীর চক্রান্ত।
খোদ এনটিএ (NTA) বিশেষজ্ঞদের যোগসাজশ!
সিবিআইয়ের তদন্তে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হল—জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ-র তরফ থেকে নিযুক্ত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং উদ্ভিদবিদ্যার (Botany) ৩ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ (Subject Experts) সরাসরি এই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার করে এই বিশেষজ্ঞরা নিজেদের হাতে থাকা প্রশ্নপত্র পরীক্ষার বহু মাস আগেই প্রশ্নফাঁস চক্রের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
২৫ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন কেনাবেচা ও সিক্রেট সাপ্লাই চেন
তদন্তে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে একটি গোপন সাপ্লাই চেন তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে কোচিং সেন্টারের মালিক, দালাল ও মধ্যস্থতাকারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করত।
মূল্য: ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন কেনাবেচা হয়েছে। কোথাও আবার এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবার কাছে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
নিরাপত্তার গ্যারান্টি: প্রশ্ন দেওয়ার জামিন বা গ্যারান্টি হিসেবে পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের আসল মার্কশিট এবং সই করা ব্লাঙ্ক চেক বা ফাঁকা চেক জমা রাখা হতো।
সোশ্যাল মিডিয়া ও অফলাইন ক্লাসে চলত কারসাজি
হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, পিডিএফ ডকুমেন্ট এবং ইমেজের মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলি ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ডিজিটাল রিপোর্ট থেকে ‘NEET’ নামাঙ্কিত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যাটের সন্ধান মিলেছে।
সিবিআই সূত্রের খবর, এনটিএ-র রসায়ন বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ কুলকার্নির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন মনীষা ওয়াঘমারে নামের এক মহিলা। প্রসঙ্গত, কুলকার্নি ওই প্রশ্নপত্রের মারাঠি থেকে ইংরেজিতে ব্যাক ট্রানস্লেশনের দায়িত্বে ছিলেন। এমনকি, এনটিএ-র এক বিশেষজ্ঞ প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর অফলাইনে ‘রিভিশন ক্লাস’ নেওয়ার নাম করে ওই ফাঁস হওয়া প্রশ্নই পড়িয়েছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে ছড়িয়েছিল জালের বিস্তার
পরীক্ষার আগে বাজারে একটি তথাকথিত “গেসিং পেপার” বা আনুমানিক প্রশ্নপত্র আসার মাধ্যমেই এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল। পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই পেপারের সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের প্রায় ১২০ থেকে ১৪০টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং কেরালা জুড়ে কুরিয়ার নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং প্রায় ২৩ লক্ষ তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় মে মাসেই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) অ্যাক্ট ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে সিবিআই। বর্তমানে এই মামলার ১৩ জন অভিযুক্তই জেল হেফাজতে রয়েছেন।