আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক পোস্ট করলেই কড়া শাস্তি! ২৪ ঘণ্টার বদলে মাত্র ২ ঘণ্টায় ডিলিট করতে হবে কনটেন্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর অপব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও, ভুয়ো ছবি এবং আপত্তিকর অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এই বিপজ্জনক সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচার রুখতে এবার কড়া হাতে আসরে নামল ভারত সরকার। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি নিয়মে (IT Rules) একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও কঠোর পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)।

একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ, বিশ্বস্ত এবং দায়বদ্ধ ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই খসড়া নিয়মে এই কড়াকড়ি আনা হচ্ছে বলে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে যে সমস্ত বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:
মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ: সরকার বা আদালতের তরফে কোনো বেআইনি বা ক্ষতিকারক এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট চিহ্নিত করা হলে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থাগুলিকে তা মুছে ফেলার জন্য বর্তমানে ৩৬ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সেই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৩ ঘণ্টা করা হচ্ছে।

AI কনটেন্টের বাধ্যতামূলক লেবেলিং: ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলিতে এআই দিয়ে তৈরি যেকোনো ছবি, অডিও, ভিডিও বা লেখার গায়ে স্পষ্টভাবে ‘AI-Generated’ লেবেল বা দৃশ্যমান চিহ্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মেটাডেটা (Metadata) যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ওই ডিজিটাল কনটেন্টের আসল উৎস সহজেই সনাক্ত করা যায়।

ডিপফেক ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: ডিপফেক, এআই-এর মাধ্যমে ছদ্মবেশ ধারণ (Impersonation), শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট (CSAM) বা সম্মতি ছাড়া তৈরি ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিওর মতো ক্ষতিকারক বিষয়ের ওপর সরাসরি লাগাম টানা হচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্ট যাতে প্ল্যাটফর্মে আপলোডই না হতে পারে বা ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে উন্নত অটোমেটেড টেকনিক্যাল টুল ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা: সাধারণ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির বর্তমান সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নগ্নতা বা ছদ্মবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে মাত্র ২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মগুলির বাড়তি দায়িত্ব: ব্যবহারকারীরা যাতে কোনো বেআইনি এআই কনটেন্ট শেয়ার করার আগে তার গুরুতর আইনি পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকেন, তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকেই।

চূড়ান্ত রূপ কবে পাবে?
নিয়মগুলি বর্তমানে খসড়া প্রস্তাব বা ‘ড্রাফট’ আকারে জনসমক্ষে আনা হয়েছে এবং বিভিন্ন অংশীদার ও সাধারণ মানুষের মতামত জানার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সমস্ত পক্ষ, প্রযুক্তিবিদ এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার পরেই কেন্দ্র এই নিয়মগুলি চূড়ান্ত করবে। ফলে চূড়ান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে এর কিছু ধারায় সামান্য পরিবর্তন আসতেই পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *