হঠাৎ চড়চড় করে প্রেসার বেড়ে গেছে? হাতের কাছে এই একটি জিনিস থাকলেই এড়াতে পারেন বড় বিপদ!

অফিসের ডেডলাইন, ট্রাফিকের জ্যাম আর সঙ্গে প্রতিদিনের একঘেয়ে মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে আমাদের জীবনটা এখন যেন হাই-ভোল্টেজ ড্রামা! আর এই নাটকের সবচেয়ে বড় ভিলেনের নাম ‘উচ্চ রক্তচাপ’ বা হাই ব্লাড প্রেসার। বেশিরভাগ সময় কোনও আগাম জানান না দিয়ে একদম চুপচাপ হাজির হয় এই সমস্যা। হঠাৎ করে মাথা ঝিমঝিম, ঘাড় ধরে যাওয়া বা বুক ধড়ফড় শুরু হলেই বোঝা যায় প্রেসারের পারদ চড়ছে! প্রেসার কমে গেলে নুন-চিনির জল বা ‘ORS’ খেতে হয়, কিন্তু বাড়লে কী করবেন অনেকেই তা বুঝতে পারেন না।
এমন অচেনা আর আতঙ্কের মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে হাতের কাছে থাকা অতি সাধারণ একটি জিনিস—এক গ্লাস জল!
এক গ্লাস জলেই কেন বাজিমাত?
ব্যাপারটা শুনতে খুব সহজ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে খাঁটি বিজ্ঞান। রক্তচাপ এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম ছদ্মবেশী কারণ হলো শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন। শরীরে জল কমে গেলে আমাদের রক্তনালীগুলো সরু হয়ে আসে, ফলে রক্ত সঞ্চালন করতে হৃদপিণ্ডকে দ্বিগুণ কষ্ট করতে হয়।
ঠিক এই সময়ে এক গ্লাস স্বাভাবিক জল ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে খেলে শরীর নিমেষে রিহাইড্রেট হতে শুরু করে। এতে রক্তনালীগুলো আবার শিথিল হয় এবং দ্রুত কমতে থাকে স্নায়ুর উত্তাপ।
প্রেসার হঠাৎ করে বাড়লে কী কী করবেন?
হঠাৎ প্রেসার বাড়ার লক্ষণ টের পেলেই ঘাবড়ে না গিয়ে একদম কুল থাকুন এবং চটপট এই কাজগুলো করে ফেলুন:
এক গ্লাস জল: কোনো হুলুস্থুল না করে শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসুন। তারপর এক গ্লাস জল ধীরে ধীরে ছোট চুমুকে পান করুন।
বিশ্রাম নিন: সব কাজকর্ম সাময়িক বন্ধ করে আরাম করে বসুন বা সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন।
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস: চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে তা ছেড়ে দিন। টানা মিনিট পাঁচেক এমনটা করলেই ব্রেন সিগন্যাল পাবে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, আর প্রেসারও নামতে শুরু করবে।
নুন থেকে দূরে থাকুন: প্রেসার কম-বেশি হলেই নুন-জল খাওয়ার যে চটজলদি অভ্যাস অনেকের থাকে, ভুল করেও তা করবেন না। এতে বিপদ কমার বদলে কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে!
ওষুধ সেবন: চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসারের কোনো ইমার্জেন্সি ওষুধ যদি আপনার নির্দিষ্ট নিয়ম বা পরামর্শ মেনে খাওয়ার কথা থাকে, তবে সেটাই নিন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একেবারেই নিজের মতো কোনো ওষুধ খাবেন না।
কখন সতর্ক হবেন? (লাল সিগন্যাল)
ঘরোয়া এই টোটকায় সাময়িক আরাম মিললেও এই সমস্যাকে হালকাভাবে নেওয়া একদমই ঠিক নয়। জল খাওয়ার পরেও যদি প্রচণ্ড বুকে চাপ ধরে, তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়, কথা জড়িয়ে যায় বা চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন, তবে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নিয়মিত প্রেসার চেক করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাই উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। তবে আকস্মিক বিপদে হাতের কাছে থাকা ওই এক গ্লাস জলই হয়ে উঠতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় ফার্স্ট এইড!