অর্ডার না করলেই ঘরে আসছে পার্সেল! বেঙ্গালুরুর তরুণীর সঙ্গে ঘটা এই ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছে নেটদুনিয়া

অনলাইন কেনাকাটার রমরমা যুগে সাইবার অপরাধী ও প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশল সাধারণ মানুষকে ক্রমশ ভাবিয়ে তুলছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর এক তরুণী এমনই এক মারাত্মক ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ (COD) প্রতারণার জালে পড়তে পড়তে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। সমাজমাধ্যমে নিজের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি এই নতুন জালিয়াতির ভয়ঙ্কর ধরনটি সবার সামনে এনেছেন, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সর্তক করে জানিয়েছেন যে, আপনি কোনো কিছু অর্ডার না করা সত্ত্বেও কীভাবে অপরাধীরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জোগাড় করে বাড়িতে পার্সেল পাঠিয়ে সর্বস্বান্ত করার ফন্দি আঁটছে।
ঠিক কী ঘটেছিল বেঙ্গালুরুর সেই তরুণীর সঙ্গে?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তরুণী জানান যে, হঠাৎ করেই একদিন তাঁর বাড়িতে এক ডেলিভারি বয় একটি পার্সেল নিয়ে হাজির হন। পার্সেলের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা সিওডি লেখা ছিল এবং সেটির বিনিময় মূল্য হিসেবে ৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল।
তবে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ের বিষয় হলো, পার্সেলটির ওপর ওই তরুণীর নিজস্ব নাম, ফোন নম্বর এবং তাঁর বাড়ির সঠিক ঠিকানা একদম নিখুঁতভাবে প্রিন্ট করা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন যে তিনি নিজে কোনো জিনিস অর্ডার করেছিলেন কি না। কিন্তু নিজের স্মৃতি হাতড়ে তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি সম্প্রতি এমন কোনো জিনিস বা পার্সেল কোথাও অর্ডার করেননি। সন্দেহ হওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ ডেলিভারি বয়কে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে এই পার্সেল তাঁর নয় এবং তিনি ৫০০ টাকা দিয়ে কোনো পার্সেল গ্রহণ করবেন না।
ফাঁস হলো জালিয়াতির মূল নকশা ও প্রতারকদের ফন্দি
তরুণী যখন পার্সেলটি নিতে সটান অস্বীকার করেন, তখন ডেলিভারি বয় নিজেই তাঁকে জানান যে এই ধরনের ঘটনা আজকাল প্রায়ই ঘটছে এবং এটি একটি বড়সড় প্রতারণা হতে পারে। তদন্তে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে এই জালিয়াতির পেছনে মূলত কয়েকটি উদ্দেশ্য কাজ করে:
টাকা হাতানো: অনেক সময় পরিবারের অন্য কোনো সদস্য হয়তো ভেবে বসেন যে বাড়ির কেউ বুঝি কোনো জিনিস অনলাইনে কিনেছেন, আর এই ভেবে তাঁরা না বুঝেই ডেলিভারি ম্যানের হাতে ৫০০ বা ১০০০ টাকা ক্যাশ ধরিয়ে দেন। কিন্তু পার্সেল খুললে দেখা যায় তার ভেতরে একদম worthless বা ভাঙাচোরা কোনো জিনিস রয়েছে।
ওটিপি ও কিউআর কোড জালিয়াতি: পার্সেল ফেরত নেওয়ার বা নাম কাটানোর বাহানায় অনেক সময় গ্রাহকের ফোনে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হয়, অথবা ভুয়া অনলাইন পেমেন্টের কিউআর (QR) কোড (QR Code) স্ক্যান করিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা হাতিয়ে নেয় অপরাধীরা।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা
অনলাইন কেনাকাটা বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মোবাইল নম্বর এবং বাড়ির ঠিকানা এই প্রতারকদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
বেঙ্গালুরুর ওই তরুণী সবাইকে অত্যন্ত জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছেন যে, না চেয়ে আসা বা কোনো অর্ডার না করা ক্যাশ অন ডেলিভারি পার্সেল ভুলেও গ্রহণ করবেন না। তাছাড়া পার্সেল ফেরত দেওয়ার সময়ে বা ডেলিভারি বয়ের কথায় ভুলেও নিজের ওটিপি (OTP) বা ব্যাংকের কোনো তথ্য শেয়ার করবেন না। ডিজিটাইজেশনের এই যুগে একটুখানি অসাবধানতাই যে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাটি আরও একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল।